অষ্টম শ্রেণী: ইতিহাস, অধ্যায় – ৪: ‘সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ’ ব্যাখামূলক প্রশ্নোত্তর মান 5

অধ্যায় 8: সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ
(বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 5)

নিচের প্রশ্নগুলির নির্দেশমতো বিস্তারিত উত্তর দাও:

1. 1857 সালের মহাবিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার কীভাবে ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ (Divide and Rule) নীতি প্রয়োগ করেছিল? এর ফলাফল কী হয়েছিল?

উত্তর দেখো

ভূমিকা: 1857 সালের মহাবিদ্রোহে ভারতের হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই ব্রিটিশ সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তাই ভারতে নিজেদের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখার জন্য তারা হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চক্রান্ত শুরু করে, যা ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ নীতি নামে পরিচিত।

নীতির প্রয়োগ:

  • মুসলিমদের প্রতি বঞ্চনা: মহাবিদ্রোহের পর ব্রিটিশরা প্রথমে মুসলিমদের সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করে এবং সরকারি চাকরি ও সুযোগ-সুবিধা থেকে তাদের বঞ্চিত করে হিন্দুদের বেশি প্রাধান্য দেয়।
  • মুসলিম তোষণ: 19 শতকের শেষের দিকে হিন্দুরা যখন জাতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে রাজনৈতিক অধিকার চাইতে শুরু করে, তখন ব্রিটিশরা ভোল পালটে মুসলিমদের তোষণ করতে শুরু করে। স্যার সৈয়দ আহমেদ খান ও থিওডোর বেকের মাধ্যমে তারা মুসলিমদের মনে হিন্দু বিরোধী মনোভাব জাগিয়ে তোলে।
  • ইতিহাসের বিকৃতি: ব্রিটিশ ঐতিহাসিকরা ভারতের ইতিহাসকে হিন্দু যুগ ও মুসলিম যুগ হিসেবে বিভাজন করে পাঠ্যবইয়ে প্রচার করতে শুরু করে, যাতে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রাচীন কাল থেকেই শত্রুতা ছিল বলে প্রমাণ করা যায়।

ফলাফল: এই নীতির চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে 1906 সালে কংগ্রেস বিরোধী ‘মুসলিম লিগ’ তৈরি হয় এবং 1909 সালের মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইনে ব্রিটিশরা মুসলিমদের জন্য ‘পৃথক নির্বাচন’-এর আইনি স্বীকৃতি দেয়। এর ফলেই ভারতে সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ রোপিত হয়, যা শেষ পর্যন্ত দেশভাগের রূপ নেয়।

2. মুসলিম সমাজে আধুনিক শিক্ষার প্রসারে স্যার সৈয়দ আহমেদ খান এবং তাঁর ‘আলিগড় আন্দোলন’-এর ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

ভূমিকা: 19 শতকে হিন্দুরা আধুনিক ইংরেজি ও পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণ করে সমাজের মূল স্রোতে এগিয়ে গেলেও মুসলিম সমাজ ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে পিছিয়ে পড়েছিল। স্যার সৈয়দ আহমেদ খান মুসলিমদের এই পশ্চাদপদতা দূর করার জন্যই ‘আলিগড় আন্দোলন’ শুরু করেছিলেন।

আলিগড় আন্দোলনের ভূমিকা:

  • শিক্ষার প্রসার: তিনি 1875 খ্রিস্টাব্দে আলিগড়ে ‘মহমেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান ও ইংরেজি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। এটিই পরবর্তীকালে বিখ্যাত আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়।
  • বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি: মুসলিমদের অন্ধ কুসংস্কার থেকে মুক্ত করার জন্য তিনি ‘সায়েন্টিফিক সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং বিভিন্ন ইংরেজি বই উর্দুতে অনুবাদের ব্যবস্থা করেন। ‘তাহজিব-উল-আখলাক’ পত্রিকার মাধ্যমে তিনি আধুনিক যুক্তিবাদী চিন্তাধারার প্রচার করতেন।
  • রাজনৈতিক অবস্থান: তিনি মনে করতেন যে মুসলিমদের রাজনৈতিক আন্দোলনের বদলে শিক্ষার দিকে জোর দেওয়া উচিত। তাই তিনি মুসলিমদের জাতীয় কংগ্রেস থেকে দূরে থেকে ব্রিটিশ সরকারের অনুগত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

মূল্যায়ন: তাঁর এই আন্দোলনের ফলে মুসলিম সমাজে একটি শিক্ষিত ও আধুনিক মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্ম হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ব্রিটিশ আনুগত্যের কারণে এই আন্দোলন মুসলিমদের জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে অনেকটা দূরে সরিয়ে রেখেছিল।

3. ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ (Two-Nation Theory) কী? কীভাবে এই তত্ত্ব থেকে স্বাধীন ‘পাকিস্তান’ রাষ্ট্রের দাবি জোরালো হয়েছিল?

উত্তর দেখো

দ্বিজাতি তত্ত্ব: মুসলিম লিগ নেতা মহম্মদ আলি জিন্নাহ এই তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা ছিলেন। তাঁর মতে, ভারতের হিন্দু এবং মুসলিমরা কেবল দুটি পৃথক ধর্মাবলম্বী গোষ্ঠী নয়; তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, ইতিহাস এবং জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ আলাদা। তাই তারা হলো দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ‘জাতি’ (Nation)। দুটি আলাদা জাতির রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাও আলাদা, তাই স্বাধীন ভারতে তারা একসাথে থাকতে পারবে না।

পাকিস্তান দাবির বিবর্তন:

  • ইকবাল ও রহমত আলির ধারণা: 1930 সালে কবি স্যার মহম্মদ ইকবাল প্রথম উত্তর-পশ্চিম ভারতে একটি মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের ধারণা দেন। এরপর 1933 সালে চৌধুরী রহমত আলি সেই কল্পিত রাষ্ট্রটির নাম দেন ‘পাকিস্তান’ (Pakistan)।
  • লাহোর প্রস্তাব (1940): 1940 খ্রিস্টাব্দে মুসলিম লিগের লাহোর অধিবেশনে ফজলুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে একটি প্রস্তাব পেশ করেন, যেখানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলিকে নিয়ে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানানো হয়। এটিই ছিল পাকিস্তান সৃষ্টির মূল ভিত্তি।
  • প্রত্যক্ষ সংগ্রাম: জিন্নাহর নেতৃত্বে মুসলিম লিগ 1946 সালের 16 আগস্ট পাকিস্তান আদায়ের জন্য ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’-এর ডাক দেয়, যার জেরে সারা দেশে ভয়াবহ দাঙ্গা শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম নিশ্চিত হয়।

4. 1947 সালের ‘মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা’ কী? জাতীয় কংগ্রেস কেন দীর্ঘদিনের অখণ্ড ভারতের আদর্শ ত্যাগ করে শেষ পর্যন্ত দেশভাগের প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল?

উত্তর দেখো

মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা: ভারতের তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর জন্য 1947 সালের 3 জুন তৎকালীন ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন যে রূপরেখা প্রকাশ করেন, তা মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা নামে পরিচিত। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ভারতবর্ষকে খণ্ডিত করে ‘ভারত’ ও ‘পাকিস্তান’ নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করা হবে এবং বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশকে ধর্মের ভিত্তিতে দু-ভাগ করা হবে।

কংগ্রেসের দেশভাগ মেনে নেওয়ার কারণ:

  • ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা: 1946 সালের ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’-এর পর কলকাতা, নোয়াখালি, বিহার এবং পাঞ্জাবে যে পাশবিক দাঙ্গা ও খুনখারাপি শুরু হয়, তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার আর কোনো উপায় কংগ্রেসের কাছে ছিল না।
  • গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা: জওহরলাল নেহরু এবং সর্দার প্যাটেল বুঝতে পেরেছিলেন যে, জোর করে মুসলিমদের একটি অখণ্ড ভারতে আটকে রাখলে সারা দেশে চিরস্থায়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হবে, যা দেশের অগ্রগতি থামিয়ে দেবে।
  • শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে মুসলিম লিগ যোগ দিলেও তারা পদে পদে কংগ্রেসকে বাধা দিচ্ছিল। তাই একটি দুর্বল ও বিশৃঙ্খল অখণ্ড ভারতের বদলে একটি শক্তিশালী ও শান্তিপূর্ন খণ্ডিত ভারতই কংগ্রেসের কাছে শ্রেয় মনে হয়েছিল।

5. 1947 সালে দেশভাগের ফলে সৃষ্ট ‘উদ্বাস্তু সমস্যা’ (Refugee Crisis) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

ভূমিকা: 1947 সালের 15 আগস্ট ভারত স্বাধীনতা পেলেও, তার সাথে এসেছিল দেশভাগের মর্মান্তিক যন্ত্রণা। দেশভাগ ও দাঙ্গার কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাতারাতি নিজেদের দেশে বিদেশি হয়ে যায়, যা মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ‘উদ্বাস্তু সমস্যা’ বা Refugee Crisis তৈরি করেছিল।

সমস্যার স্বরূপ:

  • বাস্তুচ্যুতি: প্রাণ বাঁচাতে লক্ষ লক্ষ হিন্দু ও শিখ পরিবার পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে নিজেদের বাড়িঘর, চাষের জমি ও সমস্ত সম্পত্তি ফেলে একবস্ত্রে ভারতে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। একইভাবে ভারত থেকেও বহু মুসলিম পাকিস্তানে চলে যায়।
  • মানবিক বিপর্যয়: সীমান্ত পার হওয়ার সময় দাঙ্গাবাজদের হামলায় অসংখ্য মানুষ খুন হন এবং হাজার হাজার নারী লাঞ্ছনার শিকার হন। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অসংখ্য শিশু অনাথ হয়ে পড়ে।

বাংলার ওপর প্রভাব ও পুনর্বাসন:
পাঞ্জাবে উভয় দিক থেকে জনসংখ্যা বিনিময় হলেও বাংলায় তা হয়নি। পূর্ব পাকিস্তান থেকে অবিরাম স্রোতের মতো ছিন্নমূল মানুষ পশ্চিমবঙ্গে আসতে থাকে, ফলে শিয়ালদহ স্টেশন ও বিভিন্ন রিফিউজি ক্যাম্প কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। খাদ্যাভাব, রোগব্যাধি এবং বেকারত্বে বাংলার অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। ভারত সরকার কিছু মানুষকে জমি ও ঋণ দিলেও, বহু উদ্বাস্তুকে জোর করে দণ্ডকারণ্য ও আন্দামানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

6. 1946 সালের ‘ক্যাবিনেট মিশন’-এর প্রস্তাব কী ছিল? এর ব্যর্থতার পর কীভাবে ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম’ এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আগুন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল?

উত্তর দেখো

ভূমিকা: 1946 সালটি ছিল ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এবং যন্ত্রণাদায়ক একটি বছর। এই বছরেই রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চরম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার রূপ নিয়েছিল।

ক্যাবিনেট মিশন ও তার ব্যর্থতা:

  • দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য 1946 সালে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার তিন সদস্যের ‘ক্যাবিনেট মিশন’ ভারতে আসে।
  • তারা ভারতকে ভাগ না করে একটি অখণ্ড ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দেয় এবং সংবিধান রচনার জন্য ‘গণপরিষদ’ গঠনের কথা বলে।
  • কিন্তু কংগ্রেস একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার চাইলেও, মুসলিম লিগ স্বাধীন পাকিস্তানের দাবিতে অনড় থাকে। ফলে ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাবগুলি ব্যর্থ হয়।

প্রত্যক্ষ সংগ্রাম ও দাঙ্গা:

  • ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাবে পাকিস্তান সৃষ্টির স্পষ্ট ঘোষণা না থাকায়, মহম্মদ আলি জিন্নাহ 1946 সালের 16 আগস্ট পাকিস্তান আদায়ের জন্য ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ (Direct Action Day)-এর ডাক দেন।
  • এর ফলে কলকাতায় এক ভয়াবহ হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা শুরু হয়, যা ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ নামে পরিচিত। টানা কয়েকদিন ধরে চলা এই উন্মত্ত হত্যাযজ্ঞে কয়েক হাজার নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান।
  • কলকাতার এই দাঙ্গার আগুন খুব দ্রুত বাংলার নোয়াখালি, বিহার, বোম্বাই এবং পাঞ্জাবে ছড়িয়ে পড়ে। মহাত্মা গান্ধী নোয়াখালিতে গিয়ে দাঙ্গা থামানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও সারা দেশে এক অঘোষিত গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত দেশভাগকে অনিবার্য করে তোলে।

7. স্বাধীনতা লাভের পর নবগঠিত ভারত রাষ্ট্রের সামনে প্রধান দুটি চ্যালেঞ্জ কী ছিল? এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এবং ড. বি. আর. আম্বেদকরের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর দেখো

ভূমিকা: 1947 সালের 15 আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করলেও দেশভাগ, দাঙ্গা এবং অর্থনৈতিক সংকটে দেশ তখন জর্জরিত। এই পরিস্থিতিতে সদ্য স্বাধীন ভারতের সামনে প্রধান দুটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়ায়।

1. দেশীয় রাজ্যগুলির অন্তর্ভুক্তি এবং সর্দার প্যাটেল:

  • চ্যালেঞ্জ: ব্রিটিশ ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় প্রায় 500-র বেশি ছোট-বড় ‘দেশীয় রাজ্য’ ছিল (যেমন- কাশ্মীর, হায়দ্রাবাদ, জুনাগড়)। ব্রিটিশরা এদের স্বাধীন থাকার অথবা ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার অধিকার দিয়েছিল। এরা স্বাধীন থাকলে ভারত অসংখ্য টুকরোতে ভেঙে যেত।
  • প্যাটেলের ভূমিকা: স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল তাঁর অসামান্য কূটনৈতিক দক্ষতা এবং কঠোর সামরিক নীতির মাধ্যমে প্রায় সমস্ত রাজাকে বুঝিয়ে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করেন। তাঁর এই কঠোর নীতির জন্যই তাঁকে ‘ভারতের লৌহমানব’ বলা হয়।

2. ভারতের সংবিধান রচনা এবং ড. আম্বেদকর:

  • চ্যালেঞ্জ: এত বিশাল, বৈচিত্র্যময় এবং সদ্য স্বাধীন একটি দেশকে সঠিক পথে পরিচালনা করার জন্য একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের প্রয়োজন ছিল।
  • আম্বেদকরের ভূমিকা: ‘খসড়া কমিটি’-র সভাপতি হিসেবে ড. বি. আর. আম্বেদকর ভারতের সংবিধানের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করেন। তাঁর নেতৃত্বেই স্বাধীন ভারতের সংবিধানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং অস্পৃশ্যতার মতো সামাজিক ব্যাধিকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়। 1950 সালের 26 জানুয়ারি এই সংবিধান কার্যকর হওয়ার মাধ্যমেই ভারত এক শক্তিশালী প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার