অষ্টম শ্রেণী: ভূগোল, অধ্যায় –1 পৃথিবীর অন্দরমহল, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নত্তোর মান 3
অধ্যায় 1: পৃথিবীর অন্দরমহল
(বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 3) – পর্ব 1
নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
1. পৃথিবীর গভীরে প্রবেশ করা মানুষের পক্ষে কেন সম্ভব নয়?
উত্তর দেখো
- অত্যাধিক তাপমাত্রা: ভূপৃষ্ঠ থেকে যত নীচে যাওয়া যায়, তাপমাত্রা তত বাড়তে থাকে (প্রতি 33 মিটারে 1°C)। পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপমাত্রা প্রায় 5000°C, যা মানুষের সহ্যক্ষমতার সম্পূর্ণ বাইরে।
- প্রচণ্ড চাপ: পৃথিবীর ওপরের স্তরগুলির বিপুল ওজনের কারণে পৃথিবীর অভ্যন্তরে চাপ অত্যন্ত বেশি। এই প্রচণ্ড চাপে যেকোনো মানুষের শরীর পিষে যেতে পারে।
- বিষাক্ত গ্যাস ও অক্সিজেনের অভাব: ভূগর্ভের গভীরে শ্বাস নেওয়ার জন্য কোনো অক্সিজেন নেই, বরং সেখানে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও সালফারের মতো প্রাণঘাতী ও বিষাক্ত গ্যাসের আধিক্য রয়েছে।
2. পৃথিবীর অন্দরমহল সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছেন?
উত্তর দেখো
- ভূমিকম্পের তরঙ্গ: ভূমিকম্পের সময় সৃষ্ট বিভিন্ন তরঙ্গ (P ও S তরঙ্গ) পৃথিবীর ভেতরের স্তরগুলি ভেদ করে যাওয়ার সময় এদের গতিবেগ ও দিক পরিবর্তন হয়। এই তরঙ্গগুলি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর স্তরবিন্যাস ও ঘনত্ব সম্পর্কে ধারণা পান।
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ দিয়ে বেরিয়ে আসা উত্তপ্ত লাভা পরীক্ষা করে ভূগর্ভের পদার্থ, উপাদান এবং সেখানকার অত্যাধিক তাপমাত্রা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
- উষ্ণ প্রস্রবণ ও খনি: গভীর খনি এবং উষ্ণ প্রস্রবণ থেকে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন যে, পৃথিবীর পৃষ্ঠের নীচে এক বিশাল তাপভাণ্ডার লুকিয়ে রয়েছে।
3. ম্যাগমা (Magma) ও লাভা (Lava)-র মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
- অবস্থান: ভূগর্ভের অত্যাধিক তাপ ও চাপে গলিত তরল পদার্থ যখন মাটির নীচেই আবদ্ধ থাকে, তখন তাকে ম্যাগমা বলে। আর ম্যাগমা যখন ফাটল বা জ্বালামুখ দিয়ে ভূপৃষ্ঠের বাইরে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে লাভা বলে।
- উপাদান: ম্যাগমার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ও অন্যান্য নানা ধরনের গ্যাস মিশে থাকে। অন্যদিকে, লাভায় এই গ্যাস বা জলীয় বাষ্প প্রায় থাকেই না, কারণ তা বাতাসে মিশে যায়।
- তাপমাত্রা: ম্যাগমার তাপমাত্রা লাভার তুলনায় অনেক বেশি থাকে, কারণ এটি ভূগর্ভের প্রচন্ড তাপের মধ্যে আবদ্ধ থাকে। বাইরে বেরিয়ে এলে লাভার তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
4. ভূতকের (Crust) প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
উত্তর দেখো
- অবস্থান ও গভীরতা: এটি পৃথিবীর একেবারে বাইরের কঠিন ও সবচেয়ে পাতলা স্তর। এর গড় গভীরতা বা বেধ মাত্র 30 কিলোমিটার এবং এটি পৃথিবীর মোট আয়তনের মাত্র 1% দখল করে আছে।
- স্তরবিভাগ: ভূতক মূলত দুটি স্তরে বিভক্ত— মহাদেশের নীচে গ্রানাইট শিলা দ্বারা গঠিত ‘সিয়াল’ স্তর এবং মহাসাগরের নীচে ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত ‘সিমা’ স্তর।
- গুরুত্ব: মাটি, জল, উদ্ভিদ এবং সমগ্র জীবজগৎ এই ভূতকের ওপরেই টিকে আছে, তাই এটি আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর।
5. সিয়াল (SIAL) এবং সিমা (SIMA) স্তরের মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
- অবস্থান: সিয়াল স্তরটি মূলত মহাদেশের নীচে অবস্থিত, তাই একে মহাদেশীয় ভূতক বলে। অন্যদিকে, সিমা স্তরটি মহাসাগরের নীচে অবস্থিত, তাই একে মহাসাগরীয় ভূতক বলে।
- উপাদান ও শিলা: সিয়াল স্তরটি প্রধানত সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি এবং এখানে গ্রানাইট শিলার প্রাধান্য বেশি। সিমা স্তরটি সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম দিয়ে তৈরি এবং এখানে ব্যাসল্ট শিলার প্রাধান্য বেশি।
- ওজন ও ঘনত্ব: অ্যালুমিনিয়াম ম্যাগনেসিয়ামের চেয়ে হালকা হওয়ায়, সিয়াল স্তরটি সিমা স্তরের তুলনায় হালকা এবং সিয়াল স্তর সিমার ওপরে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।
6. বিযুক্তি রেখা (Discontinuity Line) কাকে বলে? এর গুরুত্ব কী?
উত্তর দেখো
- সংজ্ঞা: পৃথিবীর অভ্যন্তরে দুটি আলাদা স্তরের সংযোগস্থলে ঘনত্ব, খনিজ উপাদান এবং ভূকম্পীয় তরঙ্গের গতিবেগ যেখানে হঠাৎ করে পরিবর্তিত হয়, সেই সীমারেখাকে বিযুক্তি রেখা বলে। যেমন— কনরাড বা মোহো বিযুক্তি রেখা।
- গুরুত্ব: ভূগর্ভের অভ্যন্তরে সরাসরি দেখা সম্ভব নয়। বিযুক্তি রেখাগুলিতে ভূকম্পন তরঙ্গের পরিবর্তনের ধরন দেখেই বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর ভেতরের স্তরগুলির সীমানা, গভীরতা এবং উপাদান সম্পর্কে নিখুঁত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছেন।
7. গুরুমণ্ডল (Mantle)-এর প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর দেখো
- অবস্থান ও আয়তন: এটি ভূতক এবং কেন্দ্রমণ্ডলের ঠিক মাঝামাঝি অবস্থিত। এই স্তরটি পৃথিবীর মোট আয়তনের সবচেয়ে বেশি অংশ (প্রায় 84%) দখল করে আছে এবং এর গভীরতা প্রায় 2900 কিলোমিটার।
- উপাদান: এই স্তরটি মূলত লোহা, নিকেল, ক্রোমিয়াম, সিলিকন এবং ম্যাগনেসিয়াম দিয়ে তৈরি। এর ঘনত্ব ভূতকের চেয়ে বেশি কিন্তু কেন্দ্রমণ্ডলের চেয়ে কম।
- তাপমাত্রা ও অবস্থা: এই স্তরের তাপমাত্রা প্রায় 2000°C থেকে 3000°C এর মধ্যে থাকে। এখানকার উপাদানগুলি না-কঠিন, না-তরল অর্থাৎ সান্দ্র বা পিচ্ছিল অবস্থায় রয়েছে।
8. ক্রফেসিমা (CROFESIMA) এবং নিফেসিমা (NIFESIMA)-র মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
- অবস্থান: গুরুমণ্ডলের ওপরের স্তরটিকে ক্রফেসিমা (30 থেকে 700 কিমি গভীর) এবং গুরুমণ্ডলের নীচের স্তরটিকে নিফেসিমা (700 থেকে 2900 কিমি গভীর) বলা হয়।
- উপাদান: ক্রফেসিমা প্রধানত ক্রোমিয়াম, লোহা, সিলিকন এবং ম্যাগনেসিয়াম দিয়ে গঠিত। অন্যদিকে নিফেসিমা নিকেল, লোহা, সিলিকন এবং ম্যাগনেসিয়াম দিয়ে গঠিত।
- বিযুক্তি রেখা: এই দুটি স্তরের মাঝখানে ‘রেপিত্তি’ বিযুক্তি রেখা অবস্থান করছে। ক্রফেসিমার ওপরে মোহো বিযুক্তি রেখা এবং নিফেসিমার নীচে গুটেনবার্গ বিযুক্তি রেখা অবস্থিত।
9. অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার (Asthenosphere) বলতে কী বোঝো? এর একটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর দেখো
- সংজ্ঞা: শিলামণ্ডলের ঠিক নীচে এবং গুরুমণ্ডলের একেবারে ওপরের অংশে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত দুর্বল, সান্দ্র বা পিচ্ছিল স্তরটিকে অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার বলে। গ্রিক শব্দ ‘অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার’-এর অর্থ হলো ‘দুর্বল স্তর’।
- বৈশিষ্ট্য: এই স্তরের পদার্থগুলি গলিত বা অর্ধতরল অবস্থায় রয়েছে। ভূগর্ভের অত্যাধিক তাপে এই স্তরেই ম্যাগমার ‘পরিচলন স্রোত’-এর সৃষ্টি হয়, যার ওপর ভর করে পৃথিবীর টেকটনিক পাতগুলি ভাসমান অবস্থায় চলাচল করছে।
10. কেন্দ্রমণ্ডল (Core)-এর অবস্থান ও প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর দেখো
- অবস্থান ও গভীরতা: গুরুমণ্ডলের ঠিক নীচ থেকে অর্থাৎ 2900 কিমি গভীরতা থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র (6370 কিমি) পর্যন্ত এই স্তরটি বিস্তৃত।
- তাপমাত্রা ও ঘনত্ব: এই স্তরের গড় তাপমাত্রা প্রায় 5000°C (সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার সমান)। অত্যধিক ভারী পদার্থ দিয়ে তৈরি হওয়ায় এর ঘনত্ব পৃথিবীর সমস্ত স্তরের চেয়ে বেশি।
- উপাদান: এই স্তরটি প্রধানত অত্যন্ত ভারী দুটি খনিজ উপাদান— নিকেল (Ni) এবং লোহা (Fe) দিয়ে তৈরি, তাই একে ‘নিফে’ বলা হয়।
11. কেন্দ্রমণ্ডলকে ‘নিফে’ (NIFE) বলা হয় কেন? পৃথিবীর স্তরগুলির মধ্যে এর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি কেন?
উত্তর দেখো
- নিফে (NIFE): পৃথিবীর একেবারে ভেতরের স্তরটি প্রধানত অত্যন্ত ভারী দুটি উপাদান— নিকেল (Nickel – Ni) এবং লোহা (Ferrum – Fe) দিয়ে তৈরি। এই দুটি উপাদানের বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম দুটি অক্ষর (Ni + Fe) একসঙ্গে জুড়ে একে সংক্ষেপে নিফে বলা হয়।
- অধিক ঘনত্ব: পৃথিবী সৃষ্টির সময় যখন এটি একটি উত্তপ্ত গ্যাসীয় পিণ্ড ছিল, তখন ধীরে ধীরে ঠান্ডা হওয়ার সময় অভিকর্ষের টানে লোহা ও নিকেলের মতো সবচেয়ে ভারী ও ঘন পদার্থগুলি পৃথিবীর একেবারে কেন্দ্রের দিকে জমা হয়ে কেন্দ্রমণ্ডল তৈরি করেছে। তাই এর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
12. বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল এবং অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডলের মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
- অবস্থান: কেন্দ্রমণ্ডলের ওপরের অংশটি বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল (2900 – 5150 কিমি গভীর) এবং নীচের অংশটি অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল (5150 – 6370 কিমি গভীর) নামে পরিচিত।
- অবস্থা বা প্রকৃতি: বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলে চাপ ও ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এটি তরল বা অর্ধকঠিন অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে, ওপরের স্তরগুলির প্রচণ্ড চাপের কারণে প্রচণ্ড তাপ থাকা সত্ত্বেও অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল নিরেট বা কঠিন অবস্থায় রয়েছে।
- বিযুক্তি রেখা: এই দুটি স্তর একে অপরের থেকে ‘লেহম্যান’ বিযুক্তি রেখা দ্বারা বিচ্ছিন্ন।
13. পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর দেখো
- লোহা ও নিকেলের স্রোত: পৃথিবীর বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল স্তরটি তরল বা অর্ধতরল অবস্থায় রয়েছে। সেখানে লোহা এবং নিকেলের মতো খনিজ উপাদানগুলি প্রচণ্ড তাপে গলে গিয়ে একটি স্রোতের সৃষ্টি করেছে।
- বৈদ্যুতিক প্রবাহ: পৃথিবী যখন নিজের অক্ষের চারপাশে আবর্তন করে, তখন সেই আবর্তনের সাথে সাথে তরল বহিঃকেন্দ্রমণ্ডলের ওই লোহা ও নিকেলের স্রোতও ঘুরতে থাকে।
- চৌম্বকত্ব সৃষ্টি: এই ক্রমাগত ঘূর্ণনের ফলেই সেখানে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক প্রবাহের সৃষ্টি হয়, যা থেকেই শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র (Earth’s Magnetic Field) বা চুম্বকত্বের সৃষ্টি হয়েছে।
14. শিলামণ্ডল (Lithosphere) বলতে কী বোঝো? এর একটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর দেখো
- শিলামণ্ডল: পৃথিবীর একেবারে বাইরের আবরণ অর্থাৎ কঠিন ভূতক এবং তার ঠিক নীচে থাকা গুরুমণ্ডলের একেবারে ওপরের কিছু কঠিন অংশকে একত্রে মিলিয়ে যে স্তর তৈরি হয়েছে, তাকে শিলামণ্ডল বা লিথোস্ফিয়ার বলে। এর গড় গভীরতা প্রায় 100 কিলোমিটার।
- বৈশিষ্ট্য: এই শিলামণ্ডল কোনো একটি অখণ্ড বা টানা আবরণ নয়। এটি ফাটল বরাবর বেশ কয়েকটি ছোটো-বড়ো কঠিন ও দৃঢ় শিলাখণ্ডে বিভক্ত, যেগুলিকে ‘টেকটনিক পাত’ বা Plate বলা হয়।
15. পৃথিবীর টেকটনিক পাত (Tectonic plates) বলতে কী বোঝো? এগুলি কীভাবে চলাচল করে?
উত্তর দেখো
- টেকটনিক পাত: পৃথিবীর কঠিন শিলামণ্ডল বা লিথোস্ফিয়ার একটি অখণ্ড গোলক নয়। এটি বেশ কয়েকটি বড়ো, মাঝারি ও ছোটো টুকরোয় বিভক্ত। শিলামণ্ডলের এই বিশাল ও কঠিন শিলাখণ্ডগুলিকেই টেকটনিক পাত বা পাত বলা হয়।
- চলাচল: এই কঠিন পাতগুলি শিলামণ্ডলের ঠিক নীচে থাকা সান্দ্র ও তরল ‘অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার’ স্তরের ওপর ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। ভূগর্ভের তাপে সৃষ্ট ম্যাগমার পরিচলন স্রোতের ওপরে ভর করে পাতগুলি অত্যন্ত ধীর গতিতে (বছরে কয়েক সেন্টিমিটার) একে অপরের দিকে বা দূরে সরে যায়।
16. পরিচলন স্রোত (Convection Current) বলতে কী বোঝায়? এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব লেখো।
উত্তর দেখো
- পরিচলন স্রোত: পৃথিবীর অভ্যন্তরে থাকা অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার স্তরের সান্দ্র ও গলিত পদার্থগুলি ভূগর্ভের অত্যধিক তাপে উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে ওপরের দিকে উঠে আসে এবং ওপরের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা ও ভারী পদার্থ নীচে নেমে যায়। এইভাবে ওপর-নীচ চলাচলের মাধ্যমে যে চক্রাকার স্রোতের সৃষ্টি হয়, তাকে পরিচলন স্রোত বলে।
- প্রভাব: এই পরিচলন স্রোতের প্রভাবেই পৃথিবীর ওপরের শিলামণ্ডলের টেকটনিক পাতগুলি গতিশীল হয়। পাতগুলির এই চলনের ফলে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং ভঙ্গিল পর্বত (যেমন- হিমালয়) সৃষ্টি হয়।
17. উষ্ণ প্রস্রবণ (Hot spring) কীভাবে সৃষ্টি হয়? এর একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর দেখো
- সৃষ্টির কারণ: পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ বা অন্দরমহল অত্যন্ত উত্তপ্ত। অনেক সময় বৃষ্টির জল ফাটল দিয়ে ভূগর্ভে প্রবেশ করে এবং পৃথিবীর ভেতরের সেই প্রচণ্ড তাপে তা ফুটতে শুরু করে। এরপর সেই ফুটন্ত জল বা বাষ্প যখন প্রবল বেগে ভূতকের কোনো ফাটল বা সুড়ঙ্গ দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বাইরে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে উষ্ণ প্রস্রবণ বা গিজার বলা হয়।
- উদাহরণ: আমাদের রাজ্যের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার ‘বক্রেশ্বর’-এ এবং বিহারের রাজগীরে এই ধরনের উষ্ণ প্রস্রবণ দেখা যায়।
18. ভূতক (Crust) এবং গুরুমণ্ডল (Mantle)-এর মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
- অবস্থান ও গভীরতা: ভূতক হলো পৃথিবীর একেবারে বাইরের সবচেয়ে পাতলা আবরণ, যার গভীরতা প্রায় 30 কিমি। অন্যদিকে গুরুমণ্ডল হলো ভূতকের ঠিক নীচে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত পুরু স্তর, যার গভীরতা প্রায় 2900 কিমি।
- উপাদান: ভূতক প্রধানত সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম (সিয়াল) এবং ম্যাগনেসিয়াম (সিমা) দিয়ে তৈরি। অন্যদিকে, গুরুমণ্ডল প্রধানত লোহা, নিকেল, ক্রোমিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম দিয়ে তৈরি।
- বিযুক্তি রেখা: ভূতকের দুটি স্তরের মাঝে ‘কনরাড’ বিযুক্তি রেখা থাকে, আর গুরুমণ্ডলের দুটি স্তরের মাঝে ‘রেপিত্তি’ বিযুক্তি রেখা থাকে। ভূতক এবং গুরুমণ্ডল একে অপরের থেকে ‘মোহো’ বিযুক্তি রেখা দ্বারা বিচ্ছিন্ন।