অষ্টম শ্রেণী: ভূগোল, অধ্যায় – 4, চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর মান 3
অধ্যায় 4: চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ
(বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 3) – পর্ব 1
নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
1. পৃথিবীর সব জায়গায় বায়ুর চাপ সমান হয় না কেন? অর্থাৎ, বায়ুর চাপের তারতম্যের প্রধান তিনটি কারণ লেখো।
উত্তর দেখো
- বায়ুর উষ্ণতা: বায়ু গরম হলে হালকা হয়ে প্রসারিত হয় এবং ওপরে উঠে যায়, ফলে বায়ুর চাপ কমে (নিম্নচাপ)। আবার বায়ু শীতল হলে সংকুচিত ও ভারী হয়, ফলে বায়ুর চাপ বাড়ে (উচ্চচাপ)।
- উচ্চতা: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে ওঠা যায়, বায়ুর স্তর তত পাতলা হতে থাকে। তাই উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে বায়ুর চাপও ক্রমশ কমতে থাকে।
- জলীয় বাষ্প: জলীয় বাষ্প সাধারণ বায়ুর চেয়ে হালকা। তাই বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকলে বায়ু হালকা হয় এবং চাপ কমে যায়। শুষ্ক বায়ুতে চাপ বেশি থাকে।
2. সমচাপ রেখার প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
উত্তর দেখো
- চাপের সমতা: এই রেখাগুলি মানচিত্রের সেই সমস্ত স্থানকে যুক্ত করে, যে স্থানগুলিতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বায়ুর চাপ সমান থাকে।
- বায়ুর গতির নির্দেশক: সমচাপ রেখাগুলি একে অপরের খুব কাছাকাছি থাকলে বুঝতে হবে বায়ুর চাপের পার্থক্য খুব বেশি, ফলে সেখানে বায়ু প্রবল বেগে প্রবাহিত হবে। রেখাগুলি দূরে থাকলে বায়ু শান্ত থাকে।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের হিসাব: সমচাপ রেখাগুলি আঁকার সময় ভূপৃষ্ঠের সব জায়গার বায়ুর চাপকে সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুচাপের হিসেবে পরিবর্তন করে নেওয়া হয়।
3. উচ্চচাপ ও নিম্নচাপ অঞ্চলের মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
- তাপমাত্রা: সাধারণত শীতল অঞ্চলে বা শীতকালে বায়ুর তাপমাত্রা কম থাকায় উচ্চচাপ তৈরি হয়। অন্যদিকে, উষ্ণ অঞ্চলে বা গ্রীষ্মকালে বায়ুর তাপমাত্রা বেশি থাকায় নিম্নচাপ তৈরি হয়।
- বায়ুর গতিবিধি: উচ্চচাপ অঞ্চলে ভারী বায়ু ওপর থেকে নীচের দিকে নামে (নিম্নমুখী)। কিন্তু নিম্নচাপ অঞ্চলে হালকা বায়ু নীচ থেকে ওপরের দিকে ওঠে (ঊর্ধ্বমুখী)।
- আবহাওয়া: উচ্চচাপ অঞ্চলে আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং শান্ত আবহাওয়া বিরাজ করে। নিম্নচাপ অঞ্চলে মেঘ সৃষ্টি হয় এবং ঝড়-বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে।
4. কোরিওলিস বল কী? এই বলের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর দেখো
- কোরিওলিস বল: পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে ভূপৃষ্ঠে যে এক প্রকার কেন্দ্রাতিগ বলের সৃষ্টি হয়, যা বায়ু বা সমুদ্রস্রোতের দিক পরিবর্তন করে দেয়, তাকে কোরিওলিস বল বলে।
- বৈশিষ্ট্য 1: এই বলের প্রভাবে বায়ুপ্রবাহ সোজাসুজি না গিয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাঁদিকে বেঁকে যায়।
- বৈশিষ্ট্য 2: নিরক্ষরেখায় এই বলের প্রভাব একেবারে থাকে না বা শূন্য হয়। কিন্তু নিরক্ষরেখা থেকে দুই মেরুর দিকে অগ্রসর হলে এই বলের প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং মেরু অঞ্চলে তা সর্বোচ্চ হয়।
5. ফেরেলের সূত্র এবং বাইস ব্যালট সূত্রটি স্পষ্টভাবে বিবৃত করো।
উত্তর দেখো
- ফেরেলের সূত্র: কোরিওলিস বলের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু সোজাসুজি প্রবাহিত হতে পারে না। বায়ু সর্বদা উত্তর গোলার্ধে তার প্রবাহপথের ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে তার প্রবাহপথের বাঁদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
- বাইস ব্যালট সূত্র: উত্তর গোলার্ধে যেদিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে, সেদিকে পেছন ফিরে দাঁড়ালে ডানদিকে বায়ুর উচ্চচাপ এবং বাঁদিকে বায়ুর নিম্নচাপ অবস্থান করবে। দক্ষিণ গোলার্ধে এর ঠিক বিপরীত অবস্থা অর্থাৎ ডানদিকে নিম্নচাপ এবং বাঁদিকে উচ্চচাপ থাকবে।
6. পৃথিবীতে মোট কয়টি স্থায়ী বায়ুচাপ বলয় আছে? সেগুলির নাম পর্যায়ক্রমে লেখো।
উত্তর দেখো
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়
- কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় (উত্তর গোলার্ধে)
- মকরীয় উচ্চচাপ বলয় (দক্ষিণ গোলার্ধে)
- সুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়
- কুমেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়
- সুমেরু উচ্চচাপ বলয়
- কুমেরু উচ্চচাপ বলয়
7. নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর নিম্নচাপ বিরাজ করার প্রধান তিনটি কারণ আলোচনা করো।
উত্তর দেখো
- সূর্যরশ্মির লম্ব পতন: এই অঞ্চলে সারা বছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় বায়ুর উষ্ণতা সবচেয়ে বেশি থাকে। উষ্ণ বায়ু হালকা ও প্রসারিত হয়ে ওপরের দিকে উঠে গিয়ে নিম্নচাপ তৈরি করে।
- জলীয় বাষ্পের আধিক্য: এই অঞ্চলে স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে সূর্যের প্রখর তাপে প্রচুর পরিমাণে জল বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মেশে। জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু সাধারণ বায়ুর চেয়ে হালকা হওয়ায় এখানে নিম্নচাপ হয়।
- আবর্তন গতির প্রভাব: পৃথিবীর মাঝ বরাবর অর্থাৎ নিরক্ষীয় অঞ্চলে পৃথিবীর আবর্তনের বেগ সবচেয়ে বেশি থাকায় এখানকার বায়ু দুই মেরুর দিকে ছিটকে যায়। ফলে এখানে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ কমে যায়।
8. নিরক্ষীয় শান্তবলয় বা ডোলড্রামস বলতে কী বোঝো? এখানে শান্ত আবহাওয়া বিরাজ করে কেন?
উত্তর দেখো
- ডোলড্রামস: নিরক্ষরেখার উভয় পাশে 0° থেকে 5° অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত নিম্নচাপ বলয় অঞ্চলে সারা বছর অত্যন্ত শান্ত আবহাওয়া বিরাজ করে। এই শান্তভাবের জন্যই একে নিরক্ষীয় শান্তবলয় বা ডোলড্রামস বলা হয়।
- শান্ত আবহাওয়ার কারণ: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর প্রবল সূর্যের তাপে বাতাস গরম ও হালকা হয়ে সোজা ওপরের দিকে উঠে যায় (বায়ুর ঊর্ধ্বমুখী স্রোত)। বায়ু সোজাসুজি ওপরের দিকে উঠে যাওয়ায় এখানে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে বা পাশাপাশি কোনো বায়ুপ্রবাহ থাকে না বললেই চলে। তাই এখানকার আবহাওয়া অত্যন্ত শান্ত থাকে।
9. কর্কটীয় ও মকরীয় অঞ্চলে (25° – 35° অক্ষাংশ) উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টির দুটি প্রধান কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর দেখো
- নিরক্ষীয় বায়ুর পতন: নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে যে উষ্ণ বায়ু ওপরের দিকে ওঠে, তা ক্রমশ শীতল ও ভারী হয়ে পৃথিবীর আবর্তনের কারণে দুই দিকে ছিটকে যায়। পরে এই ভারী বায়ু কর্কটীয় ও মকরীয় অঞ্চলে নীচের দিকে নেমে আসে। ভারী বায়ু নীচে নামায় এখানে উচ্চচাপ তৈরি হয়।
- মেরু বায়ুর আগমন: সুমেরু ও কুমেরু অঞ্চল থেকে আসা অত্যন্ত শীতল ও ভারী মেরু বায়ুও পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে বিক্ষিপ্ত হয়ে এই কর্কটীয় ও মকরীয় অঞ্চলে এসে জমা হয়, যা বায়ুর চাপকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
10. ‘অশ্ব অক্ষাংশ’ বলতে কী বোঝো? এর নামকরণের পেছনে ঐতিহাসিক কারণটি কী?
উত্তর দেখো
- অশ্ব অক্ষাংশ: উভয় গোলার্ধের 25° থেকে 35° অক্ষাংশে অবস্থিত কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় অঞ্চলে বায়ুর নিম্নমুখী স্রোতের কারণে বাতাস অত্যন্ত শান্ত থাকে। এই দুটি শান্তবলয়কেই ঐতিহাসিক কারণে অশ্ব অক্ষাংশ বলা হয়।
- নামকরণের কারণ: প্রাচীনকালে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ থেকে ঘোড়া ভরতি পালতোলা বাণিজ্যিক জাহাজগুলি আটলান্টিক মহাসাগর পার হয়ে আমেরিকায় যেত। এই শান্তবলয়ে পৌঁছালে বায়ুপ্রবাহের অভাবে জাহাজগুলি প্রায়ই থেমে যেত। তখন জাহাজের ভার কমাতে এবং পানীয় জলের অভাব মেটাতে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে কিছু জীবন্ত ঘোড়া সমুদ্রে ফেলে দিতেন। এই মর্মান্তিক ঘটনা থেকেই ওই অঞ্চলগুলির নাম হয়েছে অশ্ব অক্ষাংশ।
11. নিয়ত বায়ু কাকে বলে? নিয়ত বায়ুর প্রধান তিনটি ভাগ কী কী?
উত্তর দেখো
- নিয়ত বায়ু: পৃথিবীর স্থায়ী উচ্চচাপ বলয়গুলি থেকে স্থায়ী নিম্নচাপ বলয়গুলির দিকে সারা বছর ধরে নিয়মিতভাবে একটি নির্দিষ্ট পথে যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে।
- শ্রেণিবিভাগ: নিয়ত বায়ুকে প্রধানত 3টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা—
- 1) আয়ন বায়ু (কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়)।
- 2) পশ্চিমা বায়ু (উচ্চচাপ বলয় থেকে মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়)।
- 3) মেরু বায়ু (মেরু উচ্চচাপ বলয় থেকে মেরুবৃত্ত প্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়)।
12. আয়ন বায়ুর গতিপথ ও বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর দেখো
- গতিপথ: আয়ন বায়ু কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারা বছর ধরে প্রবাহিত হয়। ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী এটি উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
- বৃষ্টিপাত: এই বায়ু মহাদেশগুলির পূর্ব উপকূলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। কিন্তু মহাদেশের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে এটি জলীয় বাষ্পহীন বা শুষ্ক হয়ে যায়, যার ফলে সেখানে বৃষ্টিপাত হয় না এবং পৃথিবীর বড়ো বড়ো মরুভূমিগুলি (যেমন- সাহারা) সৃষ্টি হয়েছে।
13. পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে মহাদেশের পশ্চিম অংশে বৃষ্টিপাত হয় কেন? ‘গর্জনশীল চল্লিশা’ কী?
উত্তর দেখো
- বৃষ্টিপাতের কারণ: পশ্চিমা বায়ু সমুদ্রের ওপর দিয়ে পশ্চিম দিক থেকে মহাদেশের পশ্চিম উপকূলে প্রবেশ করে। দীর্ঘ সমুদ্রপথ পেরিয়ে আসায় এই বায়ুতে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকে, তাই এই বায়ুর প্রভাবে মহাদেশগুলির পশ্চিম উপকূলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- গর্জনশীল চল্লিশা: দক্ষিণ গোলার্ধে স্থলভাগ কম থাকায় পশ্চিমা বায়ু মহাসাগরের ওপর দিয়ে কোনো বাধা ছাড়াই প্রচণ্ড বেগে প্রবাহিত হয়। 40° দক্ষিণ অক্ষাংশ বরাবর এই বায়ু প্রবল শব্দ করে প্রবাহিত হয় বলে একে গর্জনশীল চল্লিশা বলা হয়।
14. সমুদ্র বায়ু ও স্থল বায়ুর মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য লেখো।
[Image showing comparison between Sea breeze and Land breeze]
উত্তর দেখো
- প্রবাহের সময়: সমুদ্র বায়ু প্রবাহিত হয় দিনের বেলায়। অন্যদিকে, স্থল বায়ু প্রবাহিত হয় রাতের বেলায়।
- প্রবাহের দিক: দিনের বেলায় সমুদ্র বায়ু সমুদ্রের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে স্থলভাগের নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ছুটে আসে। রাতে স্থল বায়ু স্থলভাগের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে সমুদ্রের নিম্নচাপের দিকে ছুটে যায়।
- বায়ুর প্রকৃতি: সমুদ্র বায়ু সমুদ্রের ওপর দিয়ে আসে বলে এটি আর্দ্র এবং শীতল হয়। কিন্তু স্থল বায়ু স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে এটি মূলত শুষ্ক হয়।
15. মৌসুমী বায়ুকে “বৃহৎ পরিসরে সমুদ্র বায়ু ও স্থল বায়ু” বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
- সমুদ্র বায়ুর সাথে মিল: দিনের বেলায় যেমন সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে সমুদ্র বায়ু বয়, ঠিক তেমনি গ্রীষ্মকালে বিশাল সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে আর্দ্র মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়।
- স্থল বায়ুর সাথে মিল: রাতের বেলায় যেমন স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে স্থল বায়ু বয়, ঠিক তেমনি শীতকালে বিশাল স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে শুষ্ক মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়।
- এই মিল থাকার কারণেই আবহাওয়াবিদরা মৌসুমী বায়ুকে সমুদ্র ও স্থল বায়ুর বিশাল বা বৃহৎ রূপ বলে মনে করেন। পার্থক্য শুধু এই যে, সমুদ্র বা স্থল বায়ু দিনের বিভিন্ন সময়ে বয়, আর মৌসুমী বায়ু বছরের বিভিন্ন ঋতুতে বয়।
16. ভারতের ওপর গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন মৌসুমী বায়ুর প্রভাব সংক্ষেপে আলোচনা করো。
উত্তর দেখো
- গ্রীষ্মকালীন প্রভাব: গ্রীষ্মকালে ভারত মহাসাগর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে আর্দ্র মৌসুমী বায়ু ভারতে প্রবেশ করে। এই বায়ুতে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকায় এটি সারা ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিমঘাট পর্বতে বাধা পেয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, যা ভারতের কৃষিকাজের মূল ভিত্তি।
- শীতকালীন প্রভাব: শীতকালে স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়। এটি স্থলভাগের ওপর দিয়ে আসে বলে অত্যন্ত শুষ্ক হয়, ফলে এই বায়ুর প্রভাবে ভারতে শীতকালে সাধারণত কোনো বৃষ্টিপাত হয় না (কেবল করমণ্ডল উপকূল ছাড়া) এবং আবহাওয়া শীতল ও শুষ্ক থাকে।
17. স্থানীয় বায়ু বলতে কী বোঝো? ‘লু’ এবং ‘আঁধি’ কী?
উত্তর দেখো
- স্থানীয় বায়ু: ভূপ্রকৃতি, পর্বত বা স্থানীয় উষ্ণতার পার্থক্যের কারণে কোনো একটি ছোটো বা নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে যে বিশেষ বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে স্থানীয় বায়ু বলে।
- লু: গ্রীষ্মকালে ভারতের উত্তর-পশ্চিমাংশে (রাজস্থান, দিল্লি, পাঞ্জাব) দিনের বেলায় যে অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়, তাকে লু বলে। এর প্রভাবে অনেক মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হয়।
- আঁধি: গ্রীষ্মকালে ওই একই অঞ্চলে (উত্তর-পশ্চিম ভারতে) প্রবল উষ্ণ বাতাসের সাথে ধুলোবালি মিশে যে ভয়ানক ধূলিঝড়ের সৃষ্টি হয়, তাকে স্থানীয় ভাষায় আঁধি বলে। এর ফলে চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে যায়।
18. ‘চিনুক’ বায়ু কোথায় প্রবাহিত হয়? একে ‘তুষারভক্ষক’ বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
- প্রবাহের স্থান: চিনুক হলো একটি স্থানীয় বায়ু, যা উত্তর আমেরিকার রকি পার্বত্য অঞ্চলের পূর্ব ঢাল বেয়ে প্রেইরি তৃণভূমির দিকে প্রবাহিত হয়।
- তুষারভক্ষক বলার কারণ: শীতের শেষে রকি পার্বত্য অঞ্চল যখন বরফে ঢেকে থাকে, তখন এই অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক চিনুক বায়ু ওই অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই বায়ুর উষ্ণতা এতই বেশি থাকে যে, তা কিছুক্ষণের মধ্যেই পাহাড়ের বিস্তীর্ণ জমে থাকা বরফ গলিয়ে দেয়। বরফ গলিয়ে দেয় বলেই স্থানীয় অধিবাসীরা এই বায়ুকে তুষারভক্ষক বলে।
19. ঘূর্ণিঝড় কীভাবে সৃষ্টি হয়? এর কেন্দ্রে বায়ুর চাপ কেমন থাকে?
উত্তর দেখো
- সৃষ্টির কারণ: গ্রীষ্মের শুরুতে বা শেষে কোনো স্থানে খুব বেশি গরম পড়লে সেখানকার বাতাস হঠাৎ অত্যন্ত উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে সোজা ওপরে উঠে যায়। ফলে সেই স্থানে হঠাৎ করে একটি গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। তখন সেই গভীর শূন্যস্থান পূরণের জন্য চারপাশের অপেক্ষাকৃত শীতল ও ভারী বাতাস প্রবল বেগে কুণ্ডলী পাকিয়ে বা সর্পিলাকারে সেই কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে। এভাবেই ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়।
- কেন্দ্রের চাপ: ঘূর্ণিঝড়ের একেবারে কেন্দ্রে বায়ুর চাপ সবচেয়ে কম থাকে অর্থাৎ সেখানে গভীর নিম্নচাপ বিরাজ করে।
20. ঘূর্ণিঝড় ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
- বায়ুর চাপ: ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে সর্বদা গভীর নিম্নচাপ থাকে। কিন্তু প্রতীপ ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে সর্বদা শক্তিশালী উচ্চচাপ থাকে।
- বায়ুর গতিবিধি: ঘূর্ণিঝড়ে বায়ু বাইরের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে সর্পিলাকারে কেন্দ্রের দিকে প্রবল বেগে ছুটে আসে (অন্তর্মুখী)। অন্যদিকে, প্রতীপ ঘূর্ণিঝড়ে বায়ু কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে সর্পিলাকারে ছড়িয়ে পড়ে (বহির্মুখী)।
- আবহাওয়া: ঘূর্ণিঝড়ের ফলে আকাশে ঘন কালো মেঘ সৃষ্টি হয় এবং ভয়াবহ ঝড়বৃষ্টি ও ধ্বংসলীলা চলে। কিন্তু প্রতীপ ঘূর্ণিঝড়ের ফলে আকাশ মেঘমুক্ত ও শান্ত থাকে এবং রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করে।