অষ্টম শ্রেণী: ভূগোল, অধ্যায় – 6 জলবায়ু অঞ্চল, বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নত্তোর মান 3

অধ্যায় 6: জলবায়ু অঞ্চল
(বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 3) – পর্ব 1

নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

1. নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় প্রতিদিন বিকেলবেলা বৃষ্টিপাত হয় কেন?

উত্তর দেখো
নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রতিদিন বিকেলে বৃষ্টিপাত হওয়ার প্রধান কারণগুলি হলো:

  • এই অঞ্চলে জলভাগের পরিমাণ খুব বেশি এবং সারা বছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে প্রতিদিন প্রবল উত্তাপে প্রচুর পরিমাণ জল বাষ্পীভূত হয়ে হালকা হয়ে ওপরের দিকে ওঠে।
  • ওপরে উঠে সেই জলীয় বাষ্প শীতল ও ঘনীভূত হয়ে বিশাল কালো মেঘ তৈরি করে।
  • দুপুরের পর আকাশ কালো করে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল বেগে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়। প্রতিদিন বিকেল 4 টের দিকে এই বৃষ্টি হয় বলে একে ‘4 টার বৃষ্টি’ বলা হয়।

2. আমাজন অববাহিকার সেলভা অরণ্যকে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো
দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদী অববাহিকায় পৃথিবীর বৃহত্তম এবং গভীরতম চিরহরিৎ অরণ্য ‘সেলভা’ অবস্থিত। একে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ বলার কারণগুলি হলো:

  • এখানকার অসংখ্য বিশাল গাছপালা সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন বাতাস থেকে প্রচুর পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে নেয়।
  • এর বদলে তারা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মোট অক্সিজেনের প্রায় 20 শতাংশ একাই তৈরি করে বাতাসে ছাড়ে।
  • ফুসফুস যেমন আমাদের শরীরে বিশুদ্ধ অক্সিজেন জোগায়, এই বিশাল অরণ্যও তেমনি গোটা পৃথিবীকে অক্সিজেন জোগায় বলে একে এই নাম দেওয়া হয়েছে।

3. নিরক্ষীয় অরণ্য অঞ্চলে কাষ্ঠশিল্প বা কাঠ চেরাই শিল্প সেভাবে গড়ে ওঠেনি কেন?

উত্তর দেখো
নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রচুর গাছ থাকলেও কাঠ চেরাই শিল্প উন্নত হয়নি, কারণ:

  • দুর্ভেদ্য অরণ্য: এখানকার অরণ্য লতাপাতায় এত ঘন ও দুর্ভেদ্য যে ভেতরে প্রবেশ করা খুব কঠিন।
  • গাছের বৈচিত্র্য: এক জায়গায় নানা প্রজাতির গাছ একসঙ্গে মিশে থাকে বলে নির্দিষ্ট কোনো দরকারি গাছ খুঁজে কাটা খুব অসুবিধাজনক।
  • ভারী কাঠ: এখানকার গাছের কাঠ অত্যন্ত ভারী ও শক্ত হওয়ায় তা কাটা এবং নদীপথে বয়ে নিয়ে যাওয়া খুব কষ্টকর।
  • বিপজ্জনক পরিবেশ: বিষাক্ত পোকামাকড়, স্যাঁতসেঁতে মাটি এবং দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে এখানে কাঠ কাটা প্রায় অসম্ভব।

4. মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে পর্ণমোচী অরণ্য সৃষ্টি হওয়ার প্রধান কারণগুলি কী কী?

উত্তর দেখো
মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে পর্ণমোচী অরণ্য গড়ে ওঠার কারণ হলো:

  • এই জলবায়ু অঞ্চলে সারা বছর বৃষ্টি হয় না, মূলত একটি নির্দিষ্ট ঋতুতে (বর্ষাকালে) বৃষ্টিপাত হয়।
  • শীতকাল এবং গ্রীষ্মের শুরুর দিকটা বৃষ্টিহীন ও অত্যন্ত শুষ্ক থাকে। এই দীর্ঘ শুষ্ক মরশুমে মাটিতে জলের খুব অভাব দেখা যায়।
  • তখন প্রবল গরমে বাষ্পমোচন প্রক্রিয়ায় গাছের ভেতরের জল যাতে বেরিয়ে না যায়, তার জন্য শাল, সেগুন ইত্যাদি গাছ শীতের শুরুতেই তাদের পাতা সম্পূর্ণ ঝরিয়ে ফেলে। এই কারণেই এখানে পর্ণমোচী অরণ্যের সৃষ্টি হয়েছে।

5. মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মানুষ বসবাস করেন কেন?

উত্তর দেখো
মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে জনবসতি অত্যন্ত ঘন হওয়ার প্রধান কারণগুলি হলো:

  • কৃষিকাজের সুবিধা: গ্রীষ্মকালে পর্যাপ্ত উত্তাপ এবং বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, যা ধান, পাট, গম প্রভৃতি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার নদী উপত্যকার উর্বর মাটিতে কৃষিকাজ খুব ভালো হয়।
  • অনুকূল আবহাওয়া: এখানকার আবহাওয়া মানুষের জীবনধারণের জন্য খুব চরম নয়, বেশ আরামদায়ক।
  • সহজ জীবিকা: কৃষিকাজ, পশুপালন এবং সমতল ভূমিতে যাতায়াত ব্যবস্থার সুবিধার জন্য সহজে জীবিকা নির্বাহ করা যায়।

6. ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে শীতকালে বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো.

উত্তর দেখো
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে শীতকালে বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণ হলো:

  • শীতকালে সূর্যের দক্ষিণায়নের কারণে পৃথিবীর বায়ুচাপ বলয়গুলি কিছুটা দক্ষিণের দিকে সরে যায়।
  • এর ফলে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলটি গ্রীষ্মকালের শুষ্ক আয়ন বায়ুর প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে, সমুদ্রের দিক থেকে বয়ে আসা পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবের অধীনে চলে আসে।
  • সমুদ্রের ওপর দিয়ে বয়ে আসার কারণে এই পশ্চিমা বায়ুতে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকে, যার প্রভাবেই এখানে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়।

7. ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলকে ‘পৃথিবীর ফলের বাগান’ বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলকে পৃথিবীর ফলের বাগান বলার কারণ হলো:

  • এই অঞ্চলের জলবায়ু, বিশেষ করে এর বৃষ্টিহীন উজ্জ্বল রৌদ্রোজ্জ্বল গ্রীষ্মকাল এবং মাঝারি বৃষ্টির আর্দ্র শীতকাল রসালো ফল চাষের জন্য একদম আদর্শ।
  • এই অনুকূল পরিবেশের কারণে এখানে বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে প্রচুর পরিমাণে আঙুর, কমলালেবু, আপেল, নাশপাতি, পিচ, জলপাই ইত্যাদি ফলের বিপুল চাষ হয়। ফলের এই প্রাচুর্যের জন্যই একে এই নাম দেওয়া হয়েছে।

8. ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের গাছের পাতা ও ছাল খুব পুরু হয় কেন?

উত্তর দেখো
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে গাছের পাতা ও ছাল পুরু হওয়ার কারণগুলি হলো:

  • এই অঞ্চলে শীতকালে বৃষ্টি হলেও গ্রীষ্মকালে বৃষ্টি হয় না এবং দীর্ঘ গ্রীষ্মকাল খুব শুষ্ক থাকে।
  • এই দীর্ঘ শুষ্ক গ্রীষ্মকালে প্রবল উত্তাপে যাতে বাষ্পমোচন প্রক্রিয়ায় গাছের ভেতরের জল শুকিয়ে না যায়, তার জন্য প্রকৃতির নিয়মে এখানকার গাছের (যেমন- জলপাই) পাতা খুব পুরু হয়।
  • জল ধরে রাখার জন্যই পাতার ওপর মোম জাতীয় পদার্থের আস্তরণ থাকে এবং গাছের ছালও অত্যন্ত পুরু হয়।

9. তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চলে কোনো বড়ো গাছ জন্মায় না কেন?

উত্তর দেখো
তুন্দ্রা অঞ্চলে বড়ো গাছ না জন্মানোর কারণগুলি হলো:

  • এই অঞ্চলে সারা বছর ধরে প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকে এবং বছরের 8 থেকে 9 মাস মাটি পুরোপুরি বরফে ঢাকা থাকে।
  • তাছাড়া এখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও অত্যন্ত কম। বড়ো গাছ জন্মানোর জন্য যে উষ্ণতা, পর্যাপ্ত সূর্যালোক এবং নরম আর্দ্র মাটির প্রয়োজন, তা এখানে পাওয়া যায় না।
  • তাই গ্রীষ্মকালে অল্প সময়ের জন্য বরফ গললে শুধু কিছু মস, লাইকেন বা ছোটো গুল্ম জন্মায়, কোনো বড়ো গাছ এখানে বাঁচতে পারে না।

10. এস্কিমোদের কঠিন জীবনে কুকুর ও বল্গা হরিণের গুরুত্ব আলোচনা করো.

উত্তর দেখো
তুন্দ্রা অঞ্চলের এস্কিমোদের জীবনে কুকুর এবং বল্গা হরিণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী:

  • যাতায়াত: বরফে ঢাকা পথে যাতায়াতের জন্য তাদের প্রধান যান হলো চাকা বিহীন স্লেজ গাড়ি। এই গাড়ি টানার জন্য তারা কুকুর (হাস্কি কুকুর) ও বল্গা হরিণ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে।
  • শিকার: তীব্র ঠান্ডায় বরফের মধ্যে শিকারের সন্ধানে কুকুর তাদের খুব সাহায্য করে।
  • খাদ্য ও পোশাক: বল্গা হরিণের মাংস তারা খায় এবং এর চামড়া দিয়ে গ্রীষ্মকালীন তাঁবু (টিউপিক) ও শীতের পোশাক (পারকা) তৈরি করে।

11. নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে কোনো ঋতু পরিবর্তন দেখা যায় না কেন?

উত্তর দেখো
নিরক্ষীয় অঞ্চলে ঋতু পরিবর্তন না হওয়ার কারণগুলি হলো:

  • এই অঞ্চলে সারা বছর ধরে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়, ফলে সারা বছর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান (12 ঘণ্টা দিন ও 12 ঘণ্টা রাত) থাকে।
  • সারা বছর ধরে একই রকম প্রচণ্ড উত্তাপ থাকে এবং বার্ষিক উষ্ণতার পার্থক্য খুব কম (মাত্র 1° থেকে 3° সেলসিয়াস) হয়।
  • উষ্ণতার কোনো বিশেষ পরিবর্তন না হওয়ায় এখানে শীতকাল বা অন্য কোনো ঋতু থাকে না, সারা বছরই গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে।

12. ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে ওয়াইন বা মদ শিল্প ব্যাপকভাবে গড়ে উঠেছে কেন?

উত্তর দেখো
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ওয়াইন শিল্প গড়ে ওঠার কারণ হলো:

  • এই অঞ্চলের রৌদ্রোজ্জ্বল গ্রীষ্মকাল এবং মাঝারি বৃষ্টির আর্দ্র শীতকাল উন্নত মানের আঙুর চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
  • অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এখানে প্রচুর পরিমাণে রসালো ও মিষ্টি আঙুর জন্মায়। এই আঙুর থেকে উৎকৃষ্ট মানের মদ বা ওয়াইন তৈরি করা খুব সহজ।
  • আঙুরের বিপুল ফলন ও সহজলভ্যতার কারণেই ফ্রান্স, ইতালির মতো দেশগুলিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মদ বা ওয়াইন শিল্প ব্যাপকভাবে গড়ে উঠেছে।

13. তুন্দ্রা অঞ্চলে এস্কিমোদের বাসস্থান (ইগলু ও টিউপিক) সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর দেখো
এস্কিমোদের বাসস্থানকে ঋতু অনুযায়ী দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:

  • ইগলু: শীতকালে প্রচণ্ড ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচার জন্য এস্কিমোরা বরফের চাঁই দিয়ে গম্বুজাকৃতির বাড়ি তৈরি করে, একে ইগলু বলে। ভেতরের দিকটা গরম রাখার জন্য তারা মেঝেতে এবং দেওয়ালে পশুর চামড়া বিছিয়ে রাখে।
  • টিউপিক: গ্রীষ্মকালে যখন চারপাশের বরফ গলতে শুরু করে, তখন ইগলু গলে যায়। তখন তারা বল্গা হরিণ বা সিলমাছের চামড়া এবং হাড় দিয়ে অস্থায়ী তাঁবু তৈরি করে, একে টিউপিক বলে।

14. তুন্দ্রা অঞ্চলের অধিবাসীদের পোশাক এবং শিকার করার হাতিয়ার কেমন হয়?

উত্তর দেখো
  • পোশাক: তুন্দ্রা অঞ্চলের তীব্র শীতের হাত থেকে বাঁচার জন্য এস্কিমোরা সিলমাছ, মেরু ভল্লুক বা বল্গা হরিণের চামড়া ও লোম দিয়ে তৈরি অত্যন্ত গরম পোশাক পরে। মাথা ঢাকার জন্য তারা এক বিশেষ ধরনের হুডযুক্ত পোশাক পরে, যাকে ‘পারকা’ বলে।
  • হাতিয়ার: বরফ ঢাকা সমুদ্রে শিকার করার জন্য তারা দড়ি বাঁধা বর্শা জাতীয় বিশেষ হাতিয়ার ব্যবহার করে, যাকে ‘হারপুন’ বলে। এই হারপুন দিয়ে তারা দূর থেকে সিল বা তিমি শিকার করে।

15. ক্রান্তীয় মৌসুমী এবং নিরক্ষীয় জলবায়ুর মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো
পার্থক্যগুলি হলো:

  • বৃষ্টিপাতের সময়: নিরক্ষীয় জলবায়ুতে সারা বছর ধরে প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টিপাত হয়। কিন্তু মৌসুমী জলবায়ুতে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে (মূলত বর্ষাকালে) বৃষ্টিপাত হয়।
  • ঋতু পরিবর্তন: নিরক্ষীয় অঞ্চলে কোনো ঋতু পরিবর্তন হয় না, সারা বছর গ্রীষ্মকাল। মৌসুমী অঞ্চলে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, শীত— এই 4টি ঋতু স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
  • স্বাভাবিক উদ্ভিদ: নিরক্ষীয় অঞ্চলে চিরহরিৎ বা চিরসবুজ অরণ্য (যেমন- রবার, মেহগনি) দেখা যায়। মৌসুমী অঞ্চলে জলের অভাবে পাতা ঝরে যাওয়া পর্ণমোচী অরণ্য (যেমন- শাল, সেগুন) দেখা যায়।

16. ভূমধ্যসাগরীয় এবং মৌসুমী জলবায়ুর মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর দেখো
পার্থক্যগুলি হলো:

  • বৃষ্টিপাতের সময়: ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুতে কেবল শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় এবং গ্রীষ্মকাল শুষ্ক থাকে। অন্যদিকে, মৌসুমী জলবায়ুতে প্রধানত গ্রীষ্মকাল বা বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হয় এবং শীতকাল শুষ্ক থাকে।
  • বৃষ্টিপাতকারী বায়ু: ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে আর্দ্র পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি হয়। মৌসুমী অঞ্চলে জলীয় বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি হয়।
  • প্রধান ফসল: ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে প্রচুর রসালো ফল (আঙুর, কমলালেবু) চাষ হয়। মৌসুমী অঞ্চলে মূলত খাদ্যশস্য (ধান, গম) ও অর্থকরী ফসল (পাট, চা) চাষ হয়।

17. মেরুজ্যোতি বা অরোরা বলতে কী বোঝো?

উত্তর দেখো
  • তুন্দ্রা বা মেরু অঞ্চলে শীতকালে একটানা 6 মাস যখন রাত থাকে, তখন চারদিক গাঢ় অন্ধকারে ঢাকা থাকে।
  • এই দীর্ঘ অন্ধকার শীতকালে মাঝেমধ্যে রাতের আকাশে রামধনুর মতো সবুজ, লাল, হলুদ ও নীল রঙের এক অপূর্ব বিচিত্র আলোর ছটা দেখা যায়।
  • আকাশের এই জ্যোতি বা আলোকে মেরুজ্যোতি বা অরোরা বলে। উত্তর গোলার্ধে একে সুমেরুপ্রভা এবং দক্ষিণ গোলার্ধে কুমেরুপ্রভা বলা হয়।

18. তুন্দ্রা অঞ্চলকে ‘নিশীথ সূর্যের দেশ’ বলা হয় কেন?

উত্তর দেখো
  • মেরু বা তুন্দ্রা অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে একটানা 6 মাস দিন থাকে। এই সময়ে সূর্য কখনোই পুরোপুরি অস্ত যায় না।
  • সারাদিন সূর্য আকাশে থাকার পর, রাতের বেলাতেও দিগন্ত রেখার কাছে সূর্যকে লাল রঙের থালার মতো জ্বলজ্বল করতে দেখা যায়।
  • মাঝরাতে বা গভীর নিশীথেও সূর্য দেখা যায় বলে নরওয়ের হ্যামারফেস্ট বন্দর এবং তুন্দ্রা অঞ্চলের অন্যান্য জায়গাকে নিশীথ সূর্যের দেশ বলা হয়।

19. নিরক্ষীয় অঞ্চলের আদিবাসীদের জীবনযাত্রা সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

উত্তর দেখো
নিরক্ষীয় অরণ্য অঞ্চলের আদিবাসীদের (যেমন- কঙ্গো অববাহিকার পিগমি, আমাজন অববাহিকার রেড ইন্ডিয়ান) জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন:

  • প্রচণ্ড গরম, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং বিষাক্ত পোকামাকড়ের কারণে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা খুব কষ্টকর।
  • এরা মূলত গভীর জঙ্গল থেকে ফলমূল, মধু সংগ্রহ করে এবং বন্যপ্রাণী শিকার করে জীবন ধারণ করে।
  • আধুনিক সভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন এই মানুষগুলো কৃষিকাজ খুব একটা জানে না, মূলত যাযাবরের মতো জীবন কাটায়।

20. জলবায়ু কীভাবে মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও পোশাককে নিয়ন্ত্রণ করে? উদাহরণ দাও।

উত্তর দেখো
মানুষের খাদ্য ও পোশাক সম্পূর্ণভাবে সেখানকার জলবায়ুর ওপর নির্ভর করে:

  • খাদ্যাভ্যাস: উষ্ণ মৌসুমী অঞ্চলে কৃষিকাজ ভালো হয় বলে মানুষ মূলত ভাত, রুটি, শাকসবজি খায়। কিন্তু প্রচণ্ড শীতল তুন্দ্রা অঞ্চলে কৃষিকাজ হয় না বলে এস্কিমোরা শরীর গরম রাখতে মূলত সিল, তিমির মতো প্রাণীর কাঁচা মাংস খায়।
  • পোশাক: উষ্ণ ও আর্দ্র নিরক্ষীয় বা মৌসুমী অঞ্চলে মানুষ আরামের জন্য সুতির হালকা পোশাক পরে। অন্যদিকে, তুন্দ্রা অঞ্চলে কনকনে ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে মানুষ পশুর চামড়া ও লোমের তৈরি ভারী পোশাক (যেমন- পারকা) ব্যবহার করে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার