অষ্টম শ্রেণী: ভূগোল, অধ্যায় – 7 ‘মানুষের কার্যাবলি ও পরিবেশের অবনমন’ বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নত্তোর মান 3
অধ্যায় 7: মানুষের কার্যাবলি ও পরিবেশের অবনমন
(বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 3) – পর্ব 1
নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
1. পরিবেশের অবনমন বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।
উত্তর দেখো
- সংজ্ঞা: ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা মানুষের বিভিন্ন অবৈজ্ঞানিক ও অবিবেচক কার্যকলাপের ফলে চারপাশের পরিবেশের গুণগত মান যখন ক্রমশ নীচের দিকে নেমে যায় বা খারাপ হতে থাকে, তখন তাকে পরিবেশের অবনমন বলে।
- এর ফলে উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
- উদাহরণ: নির্বিচারে জঙ্গল কাটার ফলে পরিবেশে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গিয়ে বায়ুর গুণমান নষ্ট হচ্ছে এবং বৃষ্টিপাত কমে গিয়ে খরা সৃষ্টি হচ্ছে, এটি হলো পরিবেশ অবনমনের একটি বড়ো উদাহরণ।
2. পরিবেশ দূষণ ও পরিবেশ অবনমনের মধ্যে তিনটি মূল পার্থক্য লেখো।
উত্তর দেখো
- কারণ ও ফলাফল: পরিবেশ দূষণ হলো পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার একটি প্রক্রিয়া বা কারণ। অন্যদিকে, পরিবেশের অবনমন হলো সেই দূষণের চরম বা চূড়ান্ত ফলাফল।
- প্রভাবের বিস্তার: দূষণ সাধারণত কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে ঘটে (যেমন- কোনো নির্দিষ্ট নদীর জল দূষণ)। কিন্তু পরিবেশের অবনমন একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল বা সারা বিশ্ব জুড়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে (যেমন- বিশ্ব উষ্ণায়ন)।
- প্রতিকার: উপযুক্ত ব্যবস্থা নিলে দূষণ খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু পরিবেশের চরম অবনমন একবার ঘটলে তাকে আগের সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব।
3. পরিবেশ অবনমনের প্রধান তিনটি প্রাকৃতিক কারণ আলোচনা করো।
উত্তর দেখো
- ভূমিকম্প ও সুনামি: প্রবল ভূমিকম্প বা সমুদ্রে সুনামির ফলে মুহূর্তের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকার গাছপালা, ঘরবাড়ি, জীবজন্তু ও মানুষের জীবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়ে পরিবেশের অবনমন ঘটে।
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: আগ্নেয়গিরি থেকে প্রচণ্ড বেগে বেরিয়ে আসা ফুটন্ত লাভা, ছাই এবং বিষাক্ত গ্যাস চারপাশের পরিবেশের বাতাস ও মাটিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে।
- বন্যা ও খরা: দীর্ঘস্থায়ী প্রবল বন্যা বা একটানা বৃষ্টির অভাবে সৃষ্ট খরার কারণে কৃষিজমি, ফসল এবং অরণ্যের জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
4. পরিবেশ অবনমনের প্রধান তিনটি মনুষ্যসৃষ্ট কারণ সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর দেখো
- নির্বিচারে বৃক্ষচ্ছেদন: বসতি স্থাপন ও কৃষিজমির জন্য মানুষ নির্বিচারে বনজঙ্গল কেটে সাফ করে দিচ্ছে, যার ফলে বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইড বেড়ে যাচ্ছে এবং বৃষ্টিপাত কমে যাচ্ছে।
- শিল্পায়ন ও নগরায়ণ: যত্রতত্র নতুন শহর, কলকারখানা ও যানবাহন বৃদ্ধির ফলে পরিবেশে প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত ধোঁয়া এবং বর্জ্য পদার্থ মিশে বাতাস ও জলকে দূষিত করছে।
- অবৈজ্ঞানিক কৃষিকাজ: বেশি ফসলের লোভে মানুষ কৃষিকাজে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করছে, যা মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে এবং নদীর জলকে দূষিত করছে।
5. ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনা কেন ঘটেছিল এবং এর ফলাফল কী হয়েছিল?
উত্তর দেখো
- কারণ: 1984 সালের 3 ডিসেম্বর রাতে ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালে অবস্থিত একটি কীটনাশক কারখানায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সংরক্ষণের ট্যাঙ্ক ফেটে যায়। ফলে মারাত্মক বিষাক্ত ‘মিথাইল আইসোসায়ানেট’ (এম. আই. সি.) গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
- ফলাফল: এই দুর্ঘটনার ফলে ঘুমের মধ্যেই কয়েক হাজার মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এছাড়া লক্ষ লক্ষ মানুষ চিরতরে অন্ধ বা পঙ্গু হয়ে যান এবং বিস্তীর্ণ এলাকার গাছপালা ও জীবজন্তুর ব্যাপক ক্ষতি হয়।
6. চেরনোবিল ও ফুকুশিমা দুর্ঘটনা সম্পর্কে সংক্ষেপে যা জানো লেখো।
উত্তর দেখো
- চেরনোবিল দুর্ঘটনা (1986): ইউক্রেনের চেরনোবিল শহরের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বাতাসে প্রচুর ক্ষতিকারক তেজস্ক্রিয় পদার্থ মিশে যাওয়ার ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
- ফুকুশিমা বিপর্যয় (2011): জাপানের সমুদ্র উপকূলে প্রবল ভূমিকম্প এবং ধ্বংসাত্মক সুনামির কারণে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে সেখানে মারাত্মক বিস্ফোরণ ও তেজস্ক্রিয় বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে।
7. গ্রিনহাউস গ্যাস কাকে বলে? প্রধান তিনটি গ্রিনহাউস গ্যাসের নাম লেখো।
উত্তর দেখো
- সংজ্ঞা: বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত যেসব গ্যাস সূর্য থেকে আসা তাপকে সহজেই পৃথিবীতে ঢুকতে দেয়, কিন্তু সেই তাপকে পৃথিবী থেকে প্রতিফলিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাধা দেয়, তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস বলে। এরা তাপ আটকে রেখে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রাকে বাড়িয়ে তোলে।
- উদাহরণ: পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী প্রধান 3 টি গ্রিনহাউস গ্যাস হলো— 1) কার্বন ডাইঅক্সাইড, 2) মিথেন এবং 3) ক্লোরোফ্লুরো কার্বন।
8. বিশ্ব উষ্ণায়ন বা পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলি কী কী?
উত্তর দেখো
- গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধি: কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন প্রভৃতি গ্যাস বাতাসে প্রচুর পরিমাণে মিশে তাপমাত্রাকে আটকে রাখছে।
- বনভূমি ধ্বংস: গাছপালা কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে, কিন্তু নির্বিচারে জঙ্গল কাটার ফলে বাতাসে এর পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে।
- আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার: মানুষের ব্যবহৃত রেফ্রিজারেটর, এসি থেকে নির্গত ক্ষতিকারক ক্লোরোফ্লুরো কার্বন গ্যাস বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরকে ধ্বংস করে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে।
9. বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর পরিবেশের ওপর কী কী ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে?
উত্তর দেখো
- বরফ গলন ও জলস্তর বৃদ্ধি: পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার ফলে দুই মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এর ফলে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলীয় অঞ্চলগুলি জলের তলায় ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
- জলবায়ুর পরিবর্তন: সারা পৃথিবীতে ঋতুচক্র বদলে যাচ্ছে এবং খরা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
- জীববৈচিত্র্য ধ্বংস: আবহাওয়ার এই চরম পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে না পেরে অনেক পশুপাখি ও উদ্ভিদ ধীরে ধীরে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
10. কৃষিকাজে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কীভাবে পরিবেশের অবনমন ঘটাচ্ছে?
উত্তর দেখো
- মাটির ক্ষতি: বেশি ফসলের লোভে জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা এবং কেঁচোর মতো উপকারী জীবাণুগুলি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
- জল দূষণ: বৃষ্টির জলের সাথে এই বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ধুয়ে গিয়ে নদী ও পুকুরের জলে মিশছে এবং প্রচুর মাছ ও জলজ প্রাণীদের মৃত্যু ঘটাচ্ছে।
- মানুষের রোগব্যাধি: এই কীটনাশক যুক্ত খাবার খেয়ে মানুষের স্নায়ুতন্ত্র ও পেটের নানা জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে।
11. স্থিতিশীল উন্নয়ন বলতে কী বোঝো? এর মূল উদ্দেশ্য কী?
উত্তর দেখো
- সংজ্ঞা: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানোর ক্ষমতাকে কোনোভাবেই নষ্ট বা ক্ষতি না করে, বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর জন্য পরিবেশে যে বিজ্ঞানসম্মত, দীর্ঘমেয়াদী ও পরিকল্পিত উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়, তাকে স্থিতিশীল উন্নয়ন বলে।
- উদ্দেশ্য: এর মূল উদ্দেশ্য হলো— 1) প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার কমানো এবং 2) পরিবেশের ভারসাম্য পুরোপুরি বজায় রেখে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।
12. 1992 সালের ধরিত্রী সম্মেলন সম্পর্কে কী জানো?
উত্তর দেখো
- পরিবেশ রক্ষা এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের উদ্দেশ্যে 1992 সালে ব্রাজিলের রিও-ডি-জেনিরো শহরে একটি বিশাল আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা ধরিত্রী বা বসুন্ধরা সম্মেলন নামে পরিচিত।
- এই সম্মেলনে বিশ্বের 100 টিরও বেশি দেশ অংশগ্রহণ করেছিল।
- পরিবেশ বাঁচাতে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদ রক্ষা করতে এই সম্মেলনে 21 দফা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়, যা ‘এজেন্ডা 21’ নামে পরিচিত।
13. চিপকো আন্দোলন কবে, কোথায় এবং কেন হয়েছিল?
উত্তর দেখো
- কবে ও কোথায়: 1973 সালে উত্তরপ্রদেশের (বর্তমানে উত্তরাখণ্ড) হিমালয়ের গাড়োয়াল অঞ্চলে এই অহিংস আন্দোলন হয়েছিল।
- কেন: ঠিকাদাররা যখন পাহাড়ি এলাকার গাছপালা কাটার নির্দেশ দেয়, তখন স্থানীয় মহিলারা গাছগুলিকে কাটার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য গভীরভাবে জড়িয়ে ধরতেন। হিন্দি ‘চিপকো’ কথার অর্থ হলো জড়িয়ে ধরা। অরণ্য ধ্বংস রোধ করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখাই ছিল সুন্দরলাল বহুগুণার নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলনের মূল কারণ।
14. নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন কেন শুরু হয়েছিল? এর প্রধান নেত্রী কে ছিলেন?
উত্তর দেখো
- নর্মদা নদীর ওপর সর্দার সরোবর নামে একটি বিশাল বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
- এই বাঁধ তৈরি হলে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অরণ্য, পরিবেশ এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি চিরতরে জলের তলায় তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।
- পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের এই বিপুল ক্ষতির প্রতিবাদ করতেই মেধা পাটেকর এবং বাবা আমতের নেতৃত্বে নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন শুরু হয়।
15. বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর কীভাবে ধ্বংস হচ্ছে এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব কী?
উত্তর দেখো
- কারণ: মানুষের ব্যবহৃত রেফ্রিজারেটর, এসি, সুগন্ধি স্প্রে ইত্যাদি থেকে বাতাসে প্রচুর ক্ষতিকারক ক্লোরোফ্লুরো কার্বন গ্যাস মিশছে। এই গ্যাস বায়ুমণ্ডলের রক্ষাকবচ ওজোন স্তরকে রাসায়নিকভাবে ধ্বংস করে পাতলা করে দিচ্ছে।
- ফলাফল: ওজোন স্তর পাতলা হওয়ার ফলে সূর্যের মারাত্মক অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে এসে পড়ছে। এর ফলে মানুষের ত্বকের ক্যানসার, চোখের ক্ষতি এবং উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
16. অম্লবৃষ্টি বা অ্যাসিড বৃষ্টি কীভাবে সৃষ্টি হয়?
[Image explaining the process of acid rain formation]
উত্তর দেখো
- কলকারখানার চিমনি, ইটভাটা এবং যানবাহনের কালো ধোঁয়া থেকে প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকারক সালফার ডাইঅক্সাইড এবং নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড গ্যাস প্রতিদিন বাতাসে মেশে।
- বৃষ্টির সময় এই ক্ষতিকারক গ্যাসগুলি বৃষ্টির জলের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে সালফিউরিক অ্যাসিড এবং নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করে।
- এই অ্যাসিডযুক্ত জল যখন বৃষ্টির আকারে পৃথিবীর বুকে ঝরে পড়ে, তখন তাকেই অম্লবৃষ্টি বা অ্যাসিড বৃষ্টি বলে।
17. অম্লবৃষ্টি বা অ্যাসিড বৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাবগুলি আলোচনা করো।
উত্তর দেখো
- অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে তাজমহল, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মতো মার্বেল পাথরের তৈরি ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে (একে ‘স্টোন ক্যানসার’ বলা হয়)।
- পুকুর, নদী ও হ্রদের জল দূষিত হয়ে প্রচুর মাছ ও জলজ প্রাণী মারা যায়।
- মাটির অম্লত্ব বেড়ে গিয়ে স্বাভাবিক উর্বরতা চিরতরে নষ্ট হয়ে যায় এবং গাছপালা শুকিয়ে যায়।
18. প্লাস্টিক ও পলিথিন কীভাবে পরিবেশের অবনমন ঘটাচ্ছে?
উত্তর দেখো
- প্লাস্টিক এবং পলিথিন হলো এমন পদার্থ যা কখনোই স্বাভাবিকভাবে মাটিতে মেশে না বা পচে যায় না।
- এগুলি শত শত বছর ধরে অবিকৃত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থেকে মাটির উর্বরতা কমিয়ে দেয় এবং গাছের শিকড় বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।
- যত্রতত্র ফেলে রাখা প্লাস্টিক শহরের ড্রেন আটকে কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি করে। এছাড়া গবাদি পশু বা সামুদ্রিক প্রাণীদের পেটে গিয়ে তাদের মর্মান্তিক মৃত্যুর কারণ হয়।
19. জীববৈচিত্র্য হ্রাস বলতে কী বোঝো? এর কারণ কী?
উত্তর দেখো
- সংজ্ঞা: পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির জীবজন্তু, পাখি, কীটপতঙ্গ এবং গাছপালা যখন ধীরে ধীরে চিরতরে বিলুপ্ত বা হারিয়ে যেতে থাকে, তখন তাকে জীববৈচিত্র্য হ্রাস বলে।
- কারণ: নির্বিচারে জঙ্গল কাটা, পরিবেশ দূষণ, বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং চোরাশিকারিদের দ্বারা বন্যপ্রাণী হত্যার কারণে প্রাণীদের স্বাভাবিক বাসস্থান নষ্ট হচ্ছে এবং তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে। এর ফলেই জীববৈচিত্র্য হ্রাস পাচ্ছে।
20. পরিবেশ রক্ষায় একজন ছাত্র বা ছাত্রী হিসেবে তোমার প্রধান কর্তব্যগুলি কী হওয়া উচিত?
উত্তর দেখো
- বাড়ি, স্কুল এবং রাস্তার আশেপাশে বেশি করে গাছ লাগানো এবং নিয়মিত তাদের যত্ন নেওয়া।
- দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিক বা পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে কাগজের বা পাটের ব্যাগ ব্যবহার করা।
- জল এবং বিদ্যুতের অপচয় রোধ করা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে আশেপাশের মানুষদের সচেতন করা।