অষ্টম শ্রেণী: ভূগোল, অধ্যায় – 11, ওশিয়ানিয়া বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নত্তোর মান 3

অধ্যায় 11: ওশিয়ানিয়া
(বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর – মান: 3) – পর্ব 1

নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

1. ওশিয়ানিয়া মহাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর দেখো
  • অবস্থান: আয়তন ও জনসংখ্যার বিচারে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম এই মহাদেশটি নিরক্ষরেখার দক্ষিণ দিক থেকে শুরু করে দক্ষিণ গোলার্ধের অনেকটা অংশ জুড়ে বিস্তৃত। এর ঠিক মাঝখান দিয়ে মকরক্রান্তি রেখা প্রসারিত হয়েছে।
  • সীমানা: ওশিয়ানিয়া মহাদেশের উত্তর দিকে রয়েছে এশিয়া মহাদেশ ও প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণে কুমেরু মহাসাগর, পূর্ব দিকে বিস্তীর্ণ প্রশান্ত মহাসাগর এবং পশ্চিম দিকে ভারত মহাসাগর অবস্থিত।

2. ‘গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ’ বা পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে?

উত্তর দেখো
অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত এই প্রাচীর সৃষ্টির মূল কারণ হলো:

  • প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ ও অগভীর জলে কোটি কোটি ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণী বা প্রবাল কীট বসবাস করে।
  • এই প্রবাল কীটগুলির মৃতদেহ এবং তাদের দেহ থেকে নির্গত চুনজাতীয় পদার্থ সমুদ্রের তলদেশে স্তরে স্তরে জমতে থাকে।
  • লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এইভাবে জমতে জমতে সমুদ্রের জলতলের ওপর মাথা তুলে এই দীর্ঘ 2000 কিলোমিটার প্রবাল প্রাচীর সৃষ্টি হয়েছে।

3. অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমভাগের মালভূমি অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর দেখো
অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমভাগের সুবিশাল মালভূমির বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  • গঠন: এই অঞ্চলটি পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন এবং অত্যন্ত শক্ত শিলা দিয়ে গঠিত একটি মালভূমি।
  • ভূমিরূপ: দীর্ঘকাল ধরে রোদ ও বৃষ্টিতে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার ফলে এখানকার ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত রুক্ষ, এবড়োখেবড়ো এবং ঢেউ খেলানো।
  • মরুভূমি: বৃষ্টির চরম অভাব থাকায় এই মালভূমির এক বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে গ্রেট ভিক্টোরিয়া, গিবসনের মতো বিশাল বিশাল শুষ্ক মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে।

4. আর্টেজীয় কূপ কী এবং এটি কীভাবে সৃষ্টি হয় তা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর দেখো
  • আর্টেজীয় কূপ: অস্ট্রেলিয়ার সমভূমি অঞ্চলে মানুষের তৈরি করা এক বিশেষ ধরনের নলকূপ, যেখান থেকে পাম্প ছাড়াই মাটির তলার জল স্বাভাবিক চাপে ফোয়ারার মতো বেরিয়ে আসে, তাকে আর্টেজীয় কূপ বলে।
  • সৃষ্টির কারণ: মাটির নিচে দুটি অপ্রবেশ্য শিলাস্তরের (যাতে জল ঢোকে না) মাঝখানে যদি একটি প্রবেশ্য শিলাস্তর (যাতে জল ঢোকে) বাটির মতো বাঁকানো অবস্থায় থাকে, তবে বৃষ্টির জল ওই স্তরে জমে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। তখন ওই বাঁকানো অংশে গর্ত খুঁড়লে জলের প্রবল চাপে তা আপনা থেকেই বাইরে বেরিয়ে আসে।

5. অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলেও পশ্চিমভাগে বিস্তীর্ণ মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে কেন?

উত্তর দেখো
এই জলবায়ুগত পার্থক্যের প্রধান কারণ হলো ভূপ্রকৃতি:

  • অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল বরাবর সুদীর্ঘ গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ পর্বতমালা অবস্থিত। প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু এই পর্বতে বাধা পেয়ে পূর্ব দিকের ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
  • কিন্তু এই বাতাস পর্বত পার হয়ে যখন পশ্চিম দিকে পৌঁছায়, তখন তাতে আর জলীয় বাষ্প অবশিষ্ট থাকে না। বৃষ্টির অভাবে এই বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলেই পশ্চিমভাগে গ্রেট ভিক্টোরিয়ার মতো বিশাল মরুভূমির সৃষ্টি হয়েছে।

6. মারে-ডার্লিং নদী ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

উত্তর দেখো
অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘতম এই নদী ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  • গঠন: অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত উচ্চভূমি থেকে উৎপন্ন দুটি প্রধান নদী— মারে এবং ডার্লিং একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে এই বিশাল নদী ব্যবস্থা গঠন করেছে।
  • জলের উৎস: এই নদীগুলি মূলত বৃষ্টির জল এবং পর্বতের বরফ গলা জলে পুষ্ট হওয়ায় সারা বছর নদীতে জল থাকে (চিরপ্রবাহী)।
  • উপযোগিতা: এই নদীগুলি তাদের পলি সঞ্চয় করে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে উর্বর ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চল বা অববাহিকা তৈরি করেছে।

7. ডাউনস তৃণভূমির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?

উত্তর দেখো
অস্ট্রেলিয়ার মধ্যভাগের ডাউনস তৃণভূমির বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  • অবস্থান ও জলবায়ু: এটি মারে-ডার্লিং অববাহিকায় অবস্থিত একটি বিস্তীর্ণ সমতলভূমি, যেখানে নাতিশীতোষ্ণ ও সমভাবাপন্ন জলবায়ু দেখা যায়।
  • উদ্ভিদ: পরিমিত বৃষ্টিপাতের কারণে এখানে বড়ো গাছের বদলে মাইলের পর মাইল জুড়ে কেবল লম্বা, সবুজ ও অত্যন্ত পুষ্টিকর ঘাস জন্মায়।
  • অর্থনৈতিক গুরুত্ব: পুষ্টিকর ঘাস ও বিস্তীর্ণ চারণভূমির কারণে এটি পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভেড়া ও গবাদি পশু পালন কেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত।

8. অস্ট্রেলিয়ার প্রাণীজগতের স্বাতন্ত্র্য বা অভিনবত্ব আলোচনা করো।

উত্তর দেখো
ভৌগোলিকভাবে অন্যান্য মহাদেশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় এখানকার প্রাণীজগৎ খুব অদ্ভুত:

  • মারসুপিয়াল: এখানে ক্যাঙারু, কোয়ালার মতো এমন কিছু প্রাণী দেখা যায়, যারা অপরিণত সন্তান প্রসব করে এবং তাদের পেটের থলিতে (মারসুপিয়াম) রেখে বড়ো করে।
  • ডিম পাড়া স্তন্যপায়ী: হংসচঞ্চু বা প্লাটিপাস নামক পৃথিবীর এক অদ্ভুত স্তন্যপায়ী প্রাণী এখানে দেখা যায়, যারা সরাসরি বাচ্চা না দিয়ে ডিম পাড়ে।
  • উড়তে অক্ষম পাখি: এখানকার এমু নামক বিশাল আকারের পাখি ডানা থাকা সত্ত্বেও উড়তে পারে না, তবে অত্যন্ত দ্রুত দৌড়াতে পারে।

9. মারে-ডার্লিং অববাহিকায় কৃষিকাজ অত্যন্ত উন্নত কেন?

উত্তর দেখো
অস্ট্রেলিয়ার এই অঞ্চলে কৃষিকাজের (প্রধানত গম) ব্যাপক উন্নতির কারণ হলো:

  • উর্বর পলিমাটি: মারে ও ডার্লিং নদীর বন্যায় সঞ্চিত পলিমাটি অত্যন্ত উর্বর, যা কৃষিকাজের জন্য খুবই সহায়ক।
  • জলসেচ ব্যবস্থা: বৃষ্টিপাত মাঝারি হলেও, সারা বছর ধরে নদী থেকে এবং আর্টেজীয় কূপের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে জলসেচের সুবিধা পাওয়া যায়।
  • আধুনিক প্রযুক্তি: এটি একটি বিস্তীর্ণ সমতলভূমি হওয়ায় এখানে উন্নত বীজ, সার এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে খুব সহজেই প্রচুর ফসল ফলানো সম্ভব হয়।

10. অস্ট্রেলিয়ায় পশুপালন, বিশেষ করে ভেড়া পালন এত উন্নত কেন?

উত্তর দেখো
অস্ট্রেলিয়ায় পশুপালনের উন্নতির প্রধান কারণগুলি হলো:

  • ডাউনস তৃণভূমি: এখানকার বিস্তীর্ণ সমতল তৃণভূমিতে পশুদের জন্য প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর ঘাসের জোগান রয়েছে, যা পশুপালনের জন্য আদর্শ।
  • শিপ স্টেশন: এখানে হাজার হাজার একর জমি নিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তৈরি বিশাল বিশাল ভেড়া পালন কেন্দ্র (শিপ স্টেশন) গড়ে উঠেছে, যেখানে উন্নত মেরিনো জাতের ভেড়া পালন করা হয়।
  • অনুকূল জলবায়ু ও চাহিদা: এখানকার শীতল ও শুষ্ক জলবায়ু ভেড়াদের লোম বৃদ্ধির সহায়ক। এখানকার পশম ও মাংসের বিশ্বজোড়া চাহিদা থাকায় এই শিল্প অত্যন্ত লাভজনক।

11. নিউজিল্যান্ডের ভূপ্রকৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর দেখো
দ্বীপরাষ্ট্র নিউজিল্যান্ডের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়:

  • পার্বত্য অঞ্চল: এই দেশটি মূলত দুটি বড়ো দ্বীপ নিয়ে গঠিত এবং এর ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত পাহাড়ি ও এবড়োখেবড়ো। দক্ষিণ দ্বীপের মাঝ বরাবর সুউচ্চ দক্ষিণ আল্পস পর্বতমালা বিস্তৃত।
  • আগ্নেয়গিরি ও উষ্ণ প্রস্রবণ: এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় বলয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় অত্যন্ত ভূমিকম্প প্রবণ। এখানে অসংখ্য জীবন্ত আগ্নেয়গিরি এবং মাটি ফুঁড়ে ওঠা ফুটন্ত জলের উষ্ণ প্রস্রবণ দেখা যায়।

12. নিউজিল্যান্ডে পশুপালন অত্যন্ত উন্নত কেন?

উত্তর দেখো
নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতি মূলত পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল। এর কারণগুলি হলো:

  • অনুকূল জলবায়ু: সমুদ্রবেষ্টিত হওয়ায় এখানকার নাতিশীতোষ্ণ ও সমভাবাপন্ন জলবায়ু গবাদি পশু ও ভেড়া পালনের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক ও উপযুক্ত।
  • ক্যান্টারবেরি তৃণভূমি: দক্ষিণ দ্বীপের বিস্তীর্ণ ক্যান্টারবেরি সমভূমিতে প্রচুর পরিমাণে অত্যন্ত পুষ্টিকর ঘাস জন্মায়, যা পশুদের প্রধান খাদ্য।
  • উন্নত প্রযুক্তি ও বিশ্ববাজার: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পশু পালন করা হয় এবং এখানকার উন্নত হিমঘর ব্যবস্থার কারণে মাংস, দুধ ও পনির সারা বিশ্বে রপ্তানি করে প্রচুর লাভ হয়।

13. অস্ট্রেলিয়ার খনিজ সম্পদ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর দেখো
অস্ট্রেলিয়া খনিজ সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি দেশ:

  • সোনা: পশ্চিমের প্রাচীন মালভূমি অঞ্চলে, বিশেষ করে কালগুর্লি এবং কুলগার্ডি খনিতে প্রচুর পরিমাণে সোনা পাওয়া যায়।
  • অন্যান্য ধাতু: নিউ সাউথ ওয়েলসের ‘ব্রোকেন হিল’ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে রুপো, সিসা এবং দস্তা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া এখানে প্রচুর বক্সাইট ও লোহাও পাওয়া যায়।
  • জ্বালানি খনিজ: পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি অঞ্চলে এবং মালভূমি অঞ্চলে প্রচুর কয়লা এবং ইউরেনিয়াম পাওয়া যায়।

14. প্রচুর খনিজ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ায় ভারী শিল্পের বিশেষ উন্নতি হয়নি কেন?

উত্তর দেখো
এর প্রধান কারণগুলি হলো:

  • শ্রমিকের অভাব: মহাদেশটির আয়তন বিশাল হলেও এখানকার জনসংখ্যা অত্যন্ত কম, তাই ভারী শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত শ্রমিকের খুব অভাব রয়েছে।
  • বাজারের অভাব: দেশের জনসংখ্যা কম হওয়ায় উৎপাদিত শিল্পদ্রব্যের দেশের ভেতরে চাহিদা বা বাজার খুবই সীমিত।
  • পরিবহনের সমস্যা: বিস্তীর্ণ মরুভূমি ও দুর্গম মালভূমির কারণে দেশের ভেতরের দিকে যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা খুব একটা উন্নত নয়।

15. অস্ট্রেলিয়ায় কৃষি ও পশুভিত্তিক শিল্পের অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে কেন?

উত্তর দেখো
ভারী শিল্পের অভাব থাকলেও কৃষি ও পশুভিত্তিক শিল্পে অস্ট্রেলিয়া অনেক উন্নত, কারণ:

  • কাঁচামালের সহজলভ্যতা: মারে-ডার্লিং অববাহিকায় প্রচুর গম এবং ফল উৎপাদিত হয়, যার ওপর ভিত্তি করে ময়দা ও ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে উঠেছে।
  • পশুজাত কাঁচামাল: ডাউনস অঞ্চলের শিপ স্টেশনগুলি থেকে বিপুল পরিমাণে উন্নত মানের পশম, মাংস ও দুধ পাওয়া যায়, যা পশম শিল্প এবং দুগ্ধ শিল্পের প্রধান ভিত্তি।
  • বিদেশে রপ্তানি: এই সমস্ত প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও পশমের বিদেশে বিশাল চাহিদা রয়েছে, যা এই শিল্পের উন্নতিতে সাহায্য করেছে।

16. অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে লোকবসতি সবচেয়ে বেশি কেন?

উত্তর দেখো
অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ মানুষ এই অঞ্চলেই বসবাস করে, কারণ:

  • অনুকূল জলবায়ু: এই অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং জলবায়ু অত্যন্ত মনোরম, যা মানুষের বসবাসের জন্য খুব আরামদায়ক।
  • কৃষিকাজ: উর্বর মারে-ডার্লিং অববাহিকা এই অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রচুর পরিমাণে কৃষিকাজ হয় ও পানীয় জলের অভাব নেই।
  • কর্মসংস্থান: সিডনি, মেলবোর্নের মতো বড়ো বড়ো শহর, বন্দর ও উন্নত শিল্প কারখানা এই অঞ্চলেই গড়ে ওঠায় কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক বেশি।

17. অস্ট্রেলিয়ার মধ্য ও পশ্চিম ভাগ অত্যন্ত জনবিরল কেন?

উত্তর দেখো
এই অঞ্চলে মানুষের বসবাস প্রায় নেই বললেই চলে, কারণ:

  • প্রতিকূল জলবায়ু ও মরুভূমি: বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে গ্রেট ভিক্টোরিয়ার মতো বিশাল বিশাল মরুভূমি থাকায় এখানকার জলবায়ু অত্যন্ত চরমভাবাপন্ন ও শুষ্ক।
  • জলের অভাব: বৃষ্টিপাত একেবারেই না হওয়ায় এখানে পানীয় জল এবং কৃষিকাজের জন্য জলের তীব্র সংকট দেখা যায়।
  • দুর্গম পরিবেশ: রুক্ষ ভূপ্রকৃতির কারণে যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি, ফলে মানুষের জীবনধারণ করা অত্যন্ত কষ্টকর।

18. অস্ট্রেলিয়ার অদ্ভুত প্রাণী ক্যাঙারু ও প্লাটিপাস সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর দেখো
  • ক্যাঙারু: এটি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় প্রাণী। এরা অপরিণত সন্তান প্রসব করে এবং পেটের সামনের দিকের একটি থলিতে (মারসুপিয়াম) রেখে তাদের বড়ো করে। এদের পেছনের পা খুব শক্তিশালী হওয়ায় এরা অনেক দূর পর্যন্ত লাফিয়ে চলতে পারে।
  • প্লাটিপাস: বা হংসচঞ্চু হলো পৃথিবীর অত্যন্ত অদ্ভুত একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী, যাদের মুখটা হাঁসের ঠোঁটের মতো। স্তন্যপায়ী হওয়া সত্ত্বেও এরা সরাসরি বাচ্চা না দিয়ে ডিম পাড়ে।

19. গ্রেট আর্টেজীয় বেসিন বা বৃহৎ আর্টেজীয় অববাহিকা কী?

উত্তর দেখো
  • অস্ট্রেলিয়ার মধ্যভাগের নিম্ন সমভূমি অঞ্চলের এক বিশাল অংশ জুড়ে পৃথিবীর বৃহত্তম আর্টেজীয় জলের ভাণ্ডার গড়ে উঠেছে। একেই গ্রেট আর্টেজীয় বেসিন বলা হয়।
  • এখানকার ভূপৃষ্ঠের নিচে বাটির মতো গঠন থাকায় বৃষ্টির জল আটকা পড়ে থাকে। শুষ্ক মরুভূমি ও সমভূমি অঞ্চলে এই অববাহিকা থেকে কূপ খনন করে কৃষিকাজ ও পশুপালনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রচুর জল পাওয়া যায়।

20. গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব কী?

উত্তর দেখো
  • পরিবেশগত গুরুত্ব: এটি হলো সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের এক বিশাল ভাণ্ডার, যেখানে হাজার হাজার প্রজাতির মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী বসবাস করে। এটি প্রাকৃতিক প্রাচীর হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার উপকূলকে বিধ্বংসী সামুদ্রিক ঝড়ের হাত থেকে রক্ষা করে।
  • অর্থনৈতিক গুরুত্ব: এই রঙিন ও বৈচিত্র্যময় প্রবাল প্রাচীর দেখার জন্য সারা পৃথিবী থেকে লক্ষ লক্ষ পর্যটক এখানে আসেন, যা অস্ট্রেলিয়ার পর্যটন শিল্পের আয়ের এক বিরাট উৎস।

21. অস্ট্রেলিয়ার শিপ স্টেশন বা ভেড়া পালন কেন্দ্রগুলির বর্ণনা দাও।

উত্তর দেখো
  • অস্ট্রেলিয়ার ডাউনস অঞ্চলে হাজার হাজার হেক্টর জমি নিয়ে এক-একটি বিশাল খামার বা শিপ স্টেশন তৈরি হয়।
  • এই খামারগুলি অত্যন্ত আধুনিক। এখানে ভেড়াদের লোম কাটার জন্য আধুনিক যন্ত্র এবং স্নান করানোর জন্য সুইমিং পুলের মতো বিশেষ চৌবাচ্চা থাকে।
  • বিশাল এই খামারগুলিতে ভেড়াদের দেখাশোনা করা, কুকুর নিয়ে পাহারা দেওয়া এবং অন্যান্য কাজ করার জন্য ‘জ্যাকরু’ নামক অত্যন্ত দক্ষ কর্মী নিয়োগ করা হয়।

22. নিউজিল্যান্ডে অসংখ্য উষ্ণ প্রস্রবণ ও গিজার দেখা যায় কেন?

উত্তর দেখো
এর প্রধান কারণ হলো ভূ-তাত্ত্বিক গঠন:

  • নিউজিল্যান্ড প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় বলয়ের ওপর অবস্থিত হওয়ায় এখানে ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি অত্যন্ত উত্তপ্ত তরল ম্যাগমা অবস্থান করে।
  • মাটির তলার জল চুঁইয়ে নিচে গিয়ে এই উত্তপ্ত ম্যাগমার সংস্পর্শে এলে তা দ্রুত ফুটে বাষ্পে পরিণত হয়।
  • পরে এই বাষ্প ও ফুটন্ত জল প্রবল চাপে ভূপৃষ্ঠের ফাটল দিয়ে নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর ফোয়ারার মতো বাইরে বেরিয়ে আসে, একেই গিজার বা উষ্ণ প্রস্রবণ বলে।

অধ্যায় 11: ওশিয়ানিয়া
(বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর – 100% প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত)

নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

23. গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ বা প্রবাল প্রাচীর সৃষ্টির জন্য কী ধরনের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রয়োজন হয়?

উত্তর দেখো
অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে প্রবাল প্রাচীর গড়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশগুলি হলো:

  • উষ্ণ ও অগভীর সমুদ্র: প্রবাল কীট বেঁচে থাকার জন্য সমুদ্রের জল উষ্ণ এবং অগভীর হওয়া প্রয়োজন, যাতে সূর্যের আলো সমুদ্রের তলদেশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
  • পলিহীন পরিষ্কার জল: সমুদ্রের জল একদম পরিষ্কার ও পলি বা কাদা মুক্ত হতে হবে, কারণ পলিযুক্ত বা ঘোলা জলে প্রবাল কীট বাঁচতে পারে না।
  • পরিমিত লবণাক্ততা: সমুদ্রের জলে লবণের পরিমাণ খুব বেশি বা খুব কম হওয়া চলবে না, একটি পরিমিত লবণাক্ত পরিবেশ প্রয়োজন।

24. নিউজিল্যান্ডের উত্তর দ্বীপ এবং দক্ষিণ দ্বীপের ভূপ্রকৃতির মূল পার্থক্যগুলি কী কী?

উত্তর দেখো
এই দুটি বড়ো দ্বীপের ভূপ্রকৃতির পার্থক্যগুলি হলো:

  • উত্তর দ্বীপ: এই দ্বীপটি অত্যন্ত ভূমিকম্প প্রবণ। এখানে মাউন্ট রয়াপেহু-র মতো জীবন্ত আগ্নেয়গিরি এবং প্রচুর ফুটন্ত জলের উষ্ণ প্রস্রবণ দেখা যায়।
  • দক্ষিণ দ্বীপ: এই দ্বীপটি আগ্নেয়গিরিবিহীন কিন্তু অত্যন্ত পাহাড়ি। এর মাঝ বরাবর বরফে ঢাকা সুউচ্চ দক্ষিণ আল্পস পর্বতমালা বিস্তৃত এবং এখানে অনেক বড়ো বড়ো হিমবাহ দেখা যায়।

25. অস্ট্রেলিয়ার ডাউনস অঞ্চলে কৃষিকাজের থেকে পশুপালন বেশি লাভজনক কেন?

উত্তর দেখো
ডাউনস অঞ্চলে পশুপালন অত্যন্ত লাভজনক হওয়ার কারণ:

  • বৃষ্টিপাতের অভাব: এখানে বৃষ্টিপাত খুব কম হয় বলে কৃষিকাজ করা কঠিন। কিন্তু এই কম বৃষ্টিপাতেও অত্যন্ত নরম ও পুষ্টিকর ঘাস জন্মায়, যা ভেড়াদের প্রধান খাদ্য।
  • বিশাল চারণভূমি: জনসংখ্যা খুব কম হওয়ায় এখানকার মাইলের পর মাইল ফাঁকা জমিকে খুব সহজেই বিশাল আকারের খামার বা পশুচারণ ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
  • বিশ্বজোড়া চাহিদা: এখানকার উন্নত মেরিনো জাতের ভেড়ার পশম ও মাংস পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চড়া দামে রপ্তানি করে প্রচুর লাভ হয়।

26. ওশিয়ানিয়া মহাদেশের বেশিরভাগ দেশের অর্থনীতি মূলত কৃষি ও পশুপালন নির্ভর কেন?

উত্তর দেখো
এই মহাদেশের অর্থনীতি কৃষি ও পশুপালন নির্ভর হওয়ার প্রধান কারণগুলি হলো:

  • শিল্পের অনগ্রসরতা: জনসংখ্যা কম হওয়ায় কারখানায় কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিকের অভাব রয়েছে এবং নিজেদের দেশে তৈরি করা জিনিসপত্রের বাজার খুবই ছোটো, তাই শিল্পের খুব একটা উন্নতি হয়নি।
  • বিস্তীর্ণ চারণভূমি ও উর্বর মাটি: এখানে মারে-ডার্লিং বা ক্যান্টারবেরি-র মতো বিস্তীর্ণ উর্বর সমভূমি ও তৃণভূমি রয়েছে, যা আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ এবং পশুপালনের জন্য অত্যন্ত আদর্শ।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার