অষ্টম শ্রেণী: বাংলা, অধ্যায় – 2 অদ্ভুত আতিথেয়তা -ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২

অধ্যায় 2: অদ্ভুত আতিথেয়তা
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: 2)

নিচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও:

1. আরব জাতির আতিথেয়তার প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: আরব জাতি আতিথেয়তার ক্ষেত্রে পৃথিবীর বুকে এক অদ্বিতীয় ও শ্রেষ্ঠ জাতি। তাদের আতিথেয়তার প্রধান বৈশিষ্ট্য ও পরম ধর্ম হলো, কোনো ব্যক্তি অতিথি হিসেবে তাদের বাড়িতে আশ্রয় নিলে, তিনি পরম শত্রু হলেও আরবেরা প্রাণান্তেও তাঁর কোনো ক্ষতি বা অনিষ্ট করে না।

2. মূর সেনাপতি কীভাবে আরব সেনাপতির শিবিরে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: আরবদের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে এক মূর সেনাপতি প্রাণভয়ে দ্রুতবেগে ঘোড়ায় চড়ে পালাতে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলেন। দীর্ঘক্ষণ ঘোড়ায় চড়ার ফলে অত্যন্ত ক্লান্ত, দিকভ্রান্ত ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় তিনি ঘটনাক্রমে বিপক্ষ দলের এক আরব সেনাপতির শিবিরে এসে উপস্থিত হন এবং আশ্রয় প্রার্থনা করেন.

3. বিপক্ষ সেনাপতিকে নিজের শিবিরে দেখে আরব সেনাপতি কী রূপ আচরণ করেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: চরম শত্রু মূর সেনাপতিকে নিজের শিবিরে উপস্থিত দেখেও আরব সেনাপতি বিন্দুমাত্র বিরক্তি বা ক্রোধ প্রকাশ করেননি। বরং আরব জাতির শ্রেষ্ঠ আতিথ্য ধর্ম পালন করে তিনি তৎক্ষণাৎ পরম যত্নে সেই ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত অতিথির আহার এবং বিশ্রামের সুব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।

4. আহারের পর উভয় সেনাপতি কী বিষয়ে কথোপকথন করছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: আহারের পর ক্লান্তি দূর হলে উভয় সেনাপতি অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একত্রে বসে গল্প করছিলেন। কথোপকথনের সময় তাঁরা পরস্পর নিজেদের পূর্বপুরুষদের প্রবল পরাক্রম, যুদ্ধজয়ের কাহিনি এবং শৌর্যবীর্যের বর্ণনা করছিলেন।

5. কথোপকথন কালে আরব সেনাপতির মুখ হঠাৎ বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: দুই সেনাপতি যখন নিজেদের পূর্বপুরুষদের বীরত্বের গল্প করছিলেন, তখন মূর সেনাপতির কথায় আরব সেনাপতি হঠাৎ বুঝতে পারেন যে এই আশ্রিত ব্যক্তিই তাঁর পিতার হত্যাকারী। চরম শত্রুকে সামনে দেখে তীব্র মানসিক যন্ত্রণা ও ক্ষোভে আরব সেনাপতির মুখ হঠাৎ বিবর্ণ বা ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল।

6. পিতার হত্যাকারীকে চিনতে পেরে আরব সেনাপতি কী করেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: পিতার হত্যাকারীকে চিনতে পেরে আরব সেনাপতির মনে প্রতিশোধের আগুন জ্বলে উঠলেও, তিনি আতিথ্য ধর্মের কারণে অতিথির কোনো ক্ষতি করেননি। মানসিক যন্ত্রণা ও ক্রোধ সংবরণ করতে না পেরে তিনি তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে বিদায় নেন এবং বলে পাঠান যে অসুস্থতার কারণে তিনি আর অতিথির পরিচর্যা করতে পারবেন না।

7. আরব সেনাপতি কেন রাতেই মূর সেনাপতির উপর প্রতিশোধ নেননি?

উত্তর দেখো

উত্তর: মূর সেনাপতি ছিলেন আরব সেনাপতির পিতার হত্যাকারী। কিন্তু সেই রাতে তিনি ছিলেন আরব সেনাপতির তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া একজন অসহায় অতিথি। অতিথিকে হত্যা করা আরবদের ধর্মে সবচেয়ে বড়ো পাপ। তাই নিজের পবিত্র আতিথ্য ধর্ম রক্ষা করতেই তিনি রাতে প্রতিশোধ নেননি।

8. আরব সেনাপতি তাঁর ভৃত্যদের কী নির্দেশ দিয়েছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: আরব সেনাপতি নিজে উপস্থিত না থাকলেও আতিথেয়তার যেন কোনো ত্রুটি না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখেছিলেন। তিনি তাঁর ভৃত্যদের নির্দেশ দিয়েছিলেন মূর সেনাপতির আহার ও শয্যার নিখুঁত তত্ত্বাবধান করতে এবং সকালে অতিথির পলায়নের সুবিধার্থে একটি অত্যন্ত দ্রুতগামী ও তেজস্বী ঘোড়া প্রস্তুত রাখতে।

9. “আমার অপেক্ষায় না থাকিয়া প্রস্থান করিবেন।” – আরব সেনাপতি কেন এ কথা বলেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: আরব সেনাপতি জানতেন যে সূর্যোদয় হলেই আতিথ্য ধর্মের মেয়াদ শেষ হবে এবং তখন তিনি পিতার হত্যাকারীকে বিনাশ করতে উদ্যত হবেন। তাই মূর সেনাপতিকে সেই নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই তিনি সূর্যোদয়ের আগে তাঁকে প্রস্থান করতে বলেছিলেন।

10. বিদায়কালে আরব সেনাপতি মূর সেনাপতিকে কী দিয়ে সাহায্য করেছিলেন এবং কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: বিদায়কালে আরব সেনাপতি মূর সেনাপতিকে পালানোর জন্য একটি অত্যন্ত তেজস্বী ও দ্রুতগামী ঘোড়া দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। কারণ মূর সেনাপতির নিজের ঘোড়াটি অত্যন্ত ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যা নিয়ে সূর্যোদয়ের পর আরব সেনাপতির আক্রমণ থেকে বেঁচে ফেরা তাঁর পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।

11. “আপনকার প্রাণরক্ষার কোনো উপায় দেখি না।” – বক্তা কেন এমন কথা বলেছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: আরব সেনাপতি সূর্যোদয় হলেই পিতৃহন্তার প্রাণনাশের জন্য নিজের সবচেয়ে দ্রুতগামী ঘোড়া নিয়ে মূর সেনাপতির পিছু ধাওয়া করবেন বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন। মূর সেনাপতি যদি দ্রুত না পালান, তবে আরব সেনাপতির ভয়ঙ্কর ক্ষিপ্রতার হাত থেকে তাঁর প্রাণরক্ষা কিছুতেই সম্ভব নয়, এই কারণেই বক্তা এমন কথা বলেছেন।

12. “আমাদের উভয় জাতির যে বৈরভাব আছে, আমি তোমা অপেক্ষা তাহার উত্তম প্রমাণ দিতেছি না।” – কথাটির তাৎপর্য কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: এর তাৎপর্য হলো, মূর সেনাপতি আরব সেনাপতির পিতাকে হত্যা করে দুই জাতির শত্রুতার প্রমাণ দিয়েছিলেন। কিন্তু আরব সেনাপতি পিতৃহন্তাকে হাতের মুঠোয় পেয়েও আতিথ্য ধর্মের কারণে ক্ষমা করেছেন এবং তাঁকে পালাতে সাহায্য করে শত্রুতার বদলে এক বিরল মহানুভবতার প্রমাণ দিয়েছেন, যা মূর সেনাপতির নিষ্ঠুরতার চেয়ে অনেক বেশি মহৎ।

13. সূর্যোদয় হলে আরব সেনাপতি কী করেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: সূর্যোদয় হওয়ার সাথে সাথে আতিথ্য ধর্মের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তখন পিতার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আরব সেনাপতি তাঁর অত্যন্ত দ্রুতগামী ও তেজস্বী ঘোড়ায় চড়ে মূর সেনাপতিকে আক্রমণ করতে তাঁর পিছু ধাওয়া করেছিলেন।

14. আরব সেনাপতি কেন মূর সেনাপতির অনুসরণ করেও ফিরে এসেছিলেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: মূর সেনাপতি সূর্যোদয়ের পূর্বেই একটি অত্যন্ত তেজস্বী ঘোড়া নিয়ে প্রাণভয়ে দ্রুতবেগে পালিয়েছিলেন। আরব সেনাপতি তাঁর পিছু ধাওয়া করে কিছুটা দূর যাওয়ার পর দেখেন যে, মূর সেনাপতি নিরাপদে তাঁর বিপক্ষ শিবিরের সীমানায় পৌঁছে গেছেন, তাই তাঁকে অগত্যা ফিরে আসতে হয়েছিল।

15. এই গল্পে আরব সেনাপতির চরিত্রের কোন্ কোন্ দিকগুলি ফুটে উঠেছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: এই গল্পে আরব সেনাপতির চরিত্রের একাধিক মহৎ দিক ফুটে উঠেছে। প্রথমত, তাঁর অটল আতিথ্য ধর্ম। দ্বিতীয়ত, নিজের চরম ক্রোধ এবং প্রতিশোধ স্পৃহাকে দমন করার মতো অসীম মানসিক দৃঢ়তা। এবং তৃতীয়ত, পরম শত্রুকেও প্রাণরক্ষার সুযোগ দেওয়ার মতো এক বিরল ও আদর্শ ক্ষমাশীলতা।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার