অষ্টম শ্রেণি: বাংলা, অধ্যায় – 5: সবুজ জামা – বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২

অধ্যায় 5: সবুজ জামা
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: 2)

নিচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও:

1. তোতাইবাবু স্কুলে যেতে চায় না কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: তোতাইবাবুর কাছে চার দেওয়ালের গণ্ডিতে আবদ্ধ স্কুল হলো একটি বন্দিশালার মতো। সে বদ্ধ ঘরে বসে নীরস বর্ণমালার পুঁথিগত শিক্ষা নেওয়ার চেয়ে খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতির বিশাল পাঠশালায় ঘুরে বেড়াতে বেশি ভালোবাসে, তাই সে স্কুলে যেতে চায় না।

2. “দাদু যেন কেমন!” – তোতাইবাবুর দাদুকে এমন অদ্ভুত মনে হওয়ার কারণ কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: দাদু সারাদিন চোখে চশমা দিয়ে নীরস বই পড়েন এবং তোতাইবাবুকেও প্রকৃতির আনন্দ থেকে সরিয়ে এনে অ, আ, ক, খ পড়তে বলেন। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ না করে সারাদিন বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে থাকা দাদুর এই কৃত্রিম আচরণ তোতাইবাবুর কাছে অত্যন্ত অদ্ভুত মনে হয়েছে।

3. দাদুর চশমায় কেন প্রজাপতি বসে না?

উত্তর দেখো

উত্তর: চশমা হলো আধুনিক কৃত্রিমতা এবং যান্ত্রিকতার প্রতীক, যা সম্পূর্ণ প্রাণহীন। অন্যদিকে প্রজাপতি হলো প্রকৃতির এক জীবন্ত ও স্বাধীন রূপ, যারা সজীব ও সতেজ সবুজ পাতার বা ফুলের বুকেই বসতে ভালোবাসে, কোনো কৃত্রিম কাঁচের চশমায় নয়।

4. ‘সবুজ জামা’ বলতে কবি এখানে কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: ‘সবুজ জামা’ বলতে কবি গাছেদের সবুজ পাতায় ঘেরা ডালপালাকে বা তাদের সবুজ আচ্ছাদনকে বুঝিয়েছেন। এটি আসলে সজীবতা, প্রাণবন্ততা এবং প্রকৃতির নির্মলতার এক অপূর্ব প্রতীক।

5. তোতাইবাবু সবুজ জামা পরতে চায় কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: তোতাইবাবুর বিশ্বাস, গাছের মতো সবুজ জামা পরলে রঙিন প্রজাপতিরা তাকে একটি ছোট্ট গাছ ভেবে ভুল করবে এবং নিশ্চিন্তে তার গায়ে বা ডালে এসে বসবে। প্রজাপতির সঙ্গ পাওয়ার এই তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই সে সবুজ জামা পরতে চায়।

6. তোতাইবাবু কীসের মতো এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে চায় এবং কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: তোতাইবাবু একটি গাছের মতো এক পায়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে চায়। কারণ সে গাছের মতো শান্ত, অবিচল ও প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে একটি সতেজ জীবন কাটাতে চায়, যাতে তার গায়ে প্রজাপতি এসে বসে।

7. তোতাইবাবুর গাছের মতো হওয়ার ইচ্ছার মধ্য দিয়ে কী প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: এই ইচ্ছার মধ্য দিয়ে আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে প্রকৃতির কোলে ফিরে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং প্রকৃতির প্রতি একটি নিষ্পাপ শিশুমনের অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে।

8. কবিতায় দাদু এবং তোতাইবাবুর মধ্যে কীসের বৈপরীত্য দেখা যায়?

উত্তর দেখো

উত্তর: দাদু হলেন আধুনিক যান্ত্রিকতা, কৃত্রিমতা এবং নীরস পুঁথিগত শিক্ষার প্রতীক, যিনি চশমা ছাড়া প্রকৃতির রূপ দেখতে পান না। অন্যদিকে তোতাইবাবু হলো সজীবতা, স্বাধীনতা এবং প্রাণবন্ত প্রকৃতির এক নির্মল প্রতীক।

9. তোতাইবাবু বইয়ের পাতা পড়তে চায় না কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: তোতাইবাবুর কাছে বইয়ের পাতায় থাকা কালো অক্ষরগুলি অত্যন্ত প্রাণহীন ও বিরক্তিকর। সে এই নীরস অক্ষরগুলির বদলে রঙিন প্রজাপতি এবং প্রকৃতির খোলা হাওয়ার সঙ্গ বেশি উপভোগ করে বলে বইয়ের পাতা পড়তে চায় না।

10. “ওরে, অ আ ক খ পড়”- কে, কাকে এ কথা বলেছেন? এর উত্তরে সে কী করে?

উত্তর দেখো

উত্তর: তোতাইবাবুর দাদু তোতাইবাবুকে এ কথা বলেছেন। এর উত্তরে তোতাইবাবু দাদুর নির্দেশ অমান্য করে এবং বইয়ের পাতা না পড়ে গাছের মতো এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার কল্পনা করে।

11. গাছেরা কেন সবুজ জামা পরে থাকে?

উত্তর দেখো

উত্তর: গাছেদের সবুজ পাতাগুলিই হলো তাদের সবুজ জামা। এই সজীব সবুজ পাতাগুলি গাছেদের প্রাণশক্তির প্রতীক, যা প্রকৃতিকে স্নিগ্ধ রাখে এবং প্রজাপতির মতো সুন্দর পতঙ্গদের আশ্রয় দেয়।

12. তোতাইবাবুর কাছে প্রকৃত আনন্দ কোথায় লুকিয়ে আছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: তোতাইবাবুর কাছে প্রকৃত আনন্দ স্কুলের চার দেওয়ালের মধ্যে বা বইয়ের পাতার নীরস অক্ষরে নেই। তার আসল আনন্দ লুকিয়ে আছে খোলা প্রকৃতির মাঝে, সবুজ গাছপালা আর রঙিন প্রজাপতির স্বাধীন ও মুক্ত পরিবেশে।

13. কবিতায় প্রজাপতি কীসের প্রতীক?

উত্তর দেখো

উত্তর: কবিতায় প্রজাপতি হলো প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, বর্ণময়তা, সজীবতা এবং স্বাধীনতার প্রতীক। এটি এমন এক নির্মল আনন্দকে বোঝায়, যা কেবল প্রকৃতির সান্নিধ্যেই লাভ করা সম্ভব।

14. দাদু চশমা ছাড়া চোখে দেখেন না কেন? এটিকে কবি কীভাবে ব্যাখ্যা করেছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের শারীরিক দৃষ্টিশক্তি কমে যায় বলেই দাদু চশমা পরেন। তবে রূপক অর্থে কবি বুঝিয়েছেন যে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে আধুনিক মানুষ তাদের মনের সজীব দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে এবং কৃত্রিম জিনিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

15. ‘সবুজ জামা’ কবিতাটি আমাদের কী বার্তা দেয়?

উত্তর দেখো

উত্তর: কবিতাটি আমাদের পরিবেশ রক্ষার এবং প্রকৃতির সাথে একাত্ম হওয়ার গভীর বার্তা দেয়। শিশুদেরকে কেবল চার দেওয়ালে আটকে না রেখে, প্রকৃতির নির্মল পরিবেশে সহজ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়ার কথাই কবি এখানে বলেছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার