অষ্টম শ্রেণি – বাংলা, তৃতীয় পাঠ, অধ্যায় -7, পরবাসী – বিষ্ণু দে, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান ২
অধ্যায় 7: পরবাসী
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: 2)
নিচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও:
1. বনের মাঝখানের পথটি কেমন?
উত্তর দেখো
উত্তর: বনের মাঝখানের পথটি অত্যন্ত আঁকাবাঁকা এবং আলো-আঁধারিতে ভরা বা ঝিকিমিকি। এই পথটি প্রকৃতির নিজস্ব ছন্দে বা তালে তালে এঁকেবেঁকে বনের গভীরের দিকে চলে গেছে।
2. রাতের অন্ধকারে বনের রূপ কেমন হয়?
উত্তর দেখো
উত্তর: রাতের অন্ধকারে বনের পরিবেশ এক অদ্ভুত রহস্যময় রূপ ধারণ করে। তখন অন্ধকারে থেকে থেকে বন্যপ্রাণীদের উজ্জ্বল চোখ জ্বলে ওঠে এবং কচি কচি খরগোশেরা আনন্দে নেচে লাফ দেয়।
3. নিটোল টিলার ওপরে কী দেখা যায় এবং সেখানে কী ঘটে?
উত্তর দেখো
উত্তর: নিটোল টিলার ওপরে লাল পলাশ ফুলের ঝোপ দেখা যায়। সেই পলাশ ঝোপের ফাঁকে হঠাৎ করে বনময়ূর আনন্দে পুলকিত হয়ে নেচে ওঠে, যা দেখে কবির শাস্ত্রীয় নৃত্য ‘কথক’-এর কথা মনে পড়ে।
4. নদীর জলতরঙ্গকে কবি কীসের সাথে তুলনা করেছেন এবং কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: নদীর জলতরঙ্গ বা স্রোতের শব্দকে কবি ‘সোনালি সেতার’-এর সুমধুর ধ্বনির সাথে তুলনা করেছেন। কারণ, সেতারের তারে আঘাত করলে যেমন মিষ্টি সুরের সৃষ্টি হয়, তেমনি নদীর স্রোত বয়ে চলার সময়ও এক অপূর্ব মধুর ধ্বনির সৃষ্টি হয়।
5. চুপি চুপি নদীর কিনারে কারা, কেন আসে?
উত্তর দেখো
উত্তর: গভীর রাতে বা নির্জন পরিবেশে বন্য হরিণের দল চুপি চুপি নদীর কিনারে আসে। তারা মূলত নিজেদের প্রবল তৃষ্ণা মেটানোর জন্যই নদীর সুশীতল জল খেতে আসে।
6. চিতা বাঘ কীভাবে চলে যায়? তার চলায় কবি কীসের আভাস পান?
উত্তর দেখো
উত্তর: চিতা বাঘ শিকারের খোঁজে লুব্ধ এবং হিংস্র ছন্দে পা ফেলে চলে যায়। তার এই ক্ষিপ্র ও হিংস্র চলার ছন্দের মধ্যে কবি বন্যপ্রাণের আদিম ও উদ্দাম ‘কথাকলি’ নৃত্যের বেগ বা আভাস দেখতে পান।
7. ‘জঙ্গল সাফ, গ্রাম মরে গেছে’ – এর ফলে কী অবস্থা হয়েছে?
উত্তর দেখো
উত্তর: যান্ত্রিক সভ্যতার আগ্রাসনে বনের জঙ্গল সাফ হয়ে গেছে এবং গ্রামগুলিও তাদের সজীবতা হারিয়েছে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হলো, জঙ্গল কেটে ফেলার পরও সেখানে নতুন কোনো শহরের পত্তন হয়নি, কেবল গাছপালাহীন রুক্ষ প্রান্তরে শুকনো হাওয়ার হাহাকার শোনা যাচ্ছে।
8. ‘ময়ূর মরেছে পণ্যে’ – কথাটির অর্থ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: আধুনিক মানুষের সীমাহীন লোভের কারণে বনের স্বাধীন বনময়ূর আজ তার স্বাধীনতা হারিয়েছে। মানুষ নিজের স্বার্থে ময়ূর শিকার করে তার পালক বা মাংস বাজারে বিক্রি করছে, ফলে জীবন্ত ও স্বাধীন ময়ূর আজ কেবল কেনাবেচার ‘পণ্য’ বা জড় সামগ্রীতে পরিণত হয়েছে।
9. মানুষ কেন আজ মৌন ও অসহায়?
উত্তর দেখো
উত্তর: আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতায় প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং চারপাশ রুক্ষ হয়ে পড়ছে। এই ব্যাপক ধ্বংসলীলা এবং কৃত্রিমতার চরম আগ্রাসনের সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ আজ ভাষাহীন, প্রতিবাদহীন, মৌন এবং অসহায় হয়ে পড়েছে।
10. আধুনিক মানুষের কাছে নদী, গাছ, পাহাড় কেন গৌণ হয়ে গেছে?
উত্তর দেখো
উত্তর: আধুনিক মানুষ ইট-কাঠ-কংক্রিটের যান্ত্রিক জীবনে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, প্রকৃতির প্রতি তাদের কোনো আকর্ষণ নেই। অর্থের লোভ এবং কৃত্রিম জীবনযাত্রার মোহে নদী, গাছ ও পাহাড়ের মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আজ তাদের কাছে তুচ্ছ বা গৌণ হয়ে গেছে।
11. ‘সিন্ধুমুনির হরিণ-আহ্বান’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: রামায়ণে উল্লিখিত অন্ধমুনির পুত্র সিন্ধুমুনি যখন কলসিতে জল ভরছিলেন, তখন সেই শব্দকে বন্য হাতির জল খাওয়ার শব্দ ভেবে রাজা দশরথ শব্দভেদী বাণ নিক্ষেপ করেন। কবিতায় নদীর কিনারে জল খেতে আসা হরিণদের চরম বিপন্নতার দিকটি বোঝাতেই কবি এই পৌরাণিক প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন।
12. ‘পরবাসী’ কবিতায় কবি নিজেকে পরবাসী বলেছেন কেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘পরবাসী’ শব্দের অর্থ হলো ভিনদেশি। কবি নিজের বাসভূমির আদিম অকৃত্রিম রূপ এবং বন্যপ্রাণীদের স্বাধীন বিচরণ দেখতে ভালোবাসেন। কিন্তু বর্তমানে সেই প্রকৃতি ধ্বংস হয়ে চারপাশ কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হওয়ায় কবি নিজের দেশেই নিজেকে অত্যন্ত একা ও ‘পরবাসী’ বলে মনে করেছেন।
13. ‘সারাদেশময় তাঁবু ব’য়ে কত ঘুরব?’ – কবির এই আক্ষেপের কারণ কী?
উত্তর দেখো
উত্তর: মানুষের লোভের কারণে প্রকৃতির সবুজ আশ্রয় আজ ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই কবির মনে হয়েছে, মানুষের আর কোনো স্থায়ী ও সজীব আশ্রয় অবশিষ্ট নেই। এই আশ্রয়হীনতা ও শেকড়বিচ্ছিন্ন অবস্থার কথা বোঝাতেই কবি তাঁবু বয়ে ঘুরে বেড়ানোর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন.
14. কবিতায় উল্লিখিত ‘কথক’ ও ‘কথাকলি’ কী? কবি কোথায় এদের রূপ দেখেছেন?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘কথক’ ও ‘কথাকলি’ হলো ভারতবর্ষের দুটি অত্যন্ত প্রাচীন ও বিখ্যাত শাস্ত্রীয় নৃত্য। কবি পলাশ ঝোপে বনময়ূরের নাচের মধ্যে ‘কথক’ এবং চিতা বাঘের লুব্ধ ও হিংস্র চলার ছন্দের মধ্যে ‘কথাকলি’ নৃত্যের অপরূপ রূপ দেখেছেন।
15. ‘পরবাসী’ কবিতাটি আমাদের কী বার্তা দেয়?
উত্তর দেখো
উত্তর: ‘পরবাসী’ কবিতাটি আমাদের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বন্যপ্রাণী বাঁচানোর গভীর বার্তা দেয়। আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার আগ্রাসন থেকে প্রকৃতিকে রক্ষা না করলে মানুষ যে একদিন নিজের বাসভূমিতেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়বে, কবি সেই বিষয়েই আমাদের সতর্ক করেছেন।