অষ্টম শ্রেণি – বাংলা, তৃতীয় পাঠ, অধ্যায় -9: একটি চড়ুই পাখি – তারাপদ রায়, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর মান 2

অধ্যায় 9: একটি চড়ুই পাখি
(সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর – মান: 2)

নিচের প্রশ্নগুলির দু-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও:

1. চড়ুই পাখিটি কোথায় বাসা বেঁধেছে এবং সে কী করে?

উত্তর দেখো

উত্তর: চড়ুই পাখিটি কবির নির্জন ও নিঃসঙ্গ ঘরের ভেতরে বাসা বেঁধেছে। সে সারাদিন ঘরের কার্নিশে বা জানালার ফাঁকে চঞ্চলভাবে ঘুরে বেড়ায় এবং নিজের প্রাণবন্ত উপস্থিতি দিয়ে ঘরটিকে সজীব রাখে।

2. “মাঝে মাঝে চলে যায়…” – চড়ুই পাখিটি কোথায় চলে যায় এবং কেন ফিরে আসে?

উত্তর দেখো

উত্তর: চড়ুই পাখিটি জানালার ফাঁক দিয়ে বাইরের খোলা ও অনন্ত পৃথিবীতে চলে যায়। কিন্তু বাইরের বিশাল পৃথিবীতে তার স্থায়ী কোনো জায়গা নেই বলে দিনের শেষে সে আবার কবির সেই পরিচিত ও নিরাপদ ঘরেই ফিরে আসে।

3. চড়ুই পাখিটি যখন ঘরে থাকে না, তখন কবির কেমন অনুভূতি হয়?

উত্তর দেখো

উত্তর: চড়ুই পাখিটি যখন জানালার ফাঁক দিয়ে বাইরে উড়ে যায়, তখন কবির নির্জন ঘরটিকে আরও বেশি শূন্য ও নিঃসঙ্গ বলে মনে হয়। পাখিটির অনুপস্থিতিতে কবির একাকীত্বের কষ্ট আরও গভীর হয়ে ওঠে।

4. বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এসে চড়ুই পাখিটি কী করে?

উত্তর দেখো

উত্তর: বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এসে চড়ুই পাখিটি ঘরের চারদিকে অত্যন্ত কৌতূহলী এবং অবাক চোখে তাকায়। সে যেন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে যে, তার অবর্তমানে ঘরের ভেতরের সবকিছু আগের মতোই ঠিকঠাক আছে কি না।

5. চড়ুই পাখিটির চোখে চারদিকের চাহনি কেমন এবং কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: ঘরে ফিরে চড়ুই পাখিটি অত্যন্ত কৌতূহলী ও অধিকারবোধের চোখে চারদিকে তাকায়। কবির মনে হয়, পাখিটি যেন গভীর মনোযোগ দিয়ে ওই ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র এবং জিনিসপত্রের ওপর নিজের মালিকানা বা অধিকার যাচাই করছে।

6. “হয়তো ভাবে…” – চড়ুই পাখিটি কী ভাবে বলে কবির মনে হয়েছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: চড়ুই পাখিটি অত্যন্ত অহংকারের সাথে ভাবে যে, এই নির্জন ঘরটি এবং ঘরের ভেতরের সমস্ত আসবাবপত্রের আসল মালিক হলো সে নিজেই। কবির মতে, পাখিটির এই ভাবনার মধ্যেই তার গভীর অধিকারবোধ লুকিয়ে আছে।

7. কবির ঘরটিকে চড়ুই পাখিটি নিজের বলে কেন মনে করে?

উত্তর দেখো

উত্তর: চড়ুই পাখিটি দিনের পর দিন কবির ওই নির্জন ঘরেই নিশ্চিন্তে বসবাস করছে। ঘরের পরিবেশে সে এতটাই অভ্যস্ত এবং স্বাধীন হয়ে উঠেছে যে, তার মনে ওই ঘরটি এবং ঘরের সম্পদের প্রতি এক ধরনের ভ্রান্ত অথচ স্থায়ী মালিকানাবোধ তৈরি হয়েছে।

8. চড়ুই পাখিটির চোখে কবির অবস্থান কী?

উত্তর দেখো

উত্তর: চড়ুই পাখিটির চোখে কবি হলেন ওই ঘরের একজন অস্থায়ী বা সাময়িক বাসিন্দা মাত্র। সে মনে করে, আজ যিনি এই ঘরে আছেন, কাল হয়তো তিনি থাকবেন না, কিন্তু সে নিজেই চিরকাল এই ঘরের মালিক হয়ে থেকে যাবে।

9. “আমি চলে গেলে…” – এই চলে যাওয়া বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: “আমি চলে গেলে…” বলতে কবি মানবজীবনের চরম পরিণতি অর্থাৎ মৃত্যুর মাধ্যমে চিরকালের জন্য পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বুঝিয়েছেন। মানুষের জীবন যে অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী বা নশ্বর, সেই গভীর সত্যটিই এখানে ফুটে উঠেছে।

10. কবি চলে গেলে ঘরের জিনিসপত্রের কী পরিণতি হবে বলে চড়ুইটি ভাবে?

উত্তর দেখো

উত্তর: চড়ুই পাখিটি ভাবে যে, কবি যেদিন চিরকালের জন্য এই ঘর ছেড়ে চলে যাবেন, সেদিন এই ঘরের একমাত্র মালিক হবে সে নিজেই। কবির অবর্তমানে ঘরের টেবিল, ফুলদানি বা বইপত্রের ওপর শুধু তার একারই অবাধ অধিকার থাকবে।

11. চড়ুই পাখিটি ঘরের কোন্ কোন্ জিনিস নিজের বলে ভাবে এবং কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: চড়ুই পাখিটি কবির ঘরের টেবিল, ফুলদানি, বইপত্র এবং অন্যান্য সমস্ত জিনিসকে নিজের সম্পদ বলে ভাবে। কারণ সে মনে করে যে মানুষ এই পৃথিবীতে ক্ষণস্থায়ী, তাই মানুষের অনুপস্থিতিতে এই সবকিছুর প্রকৃত ও চিরস্থায়ী উত্তরাধিকারী হবে সে নিজেই।

12. এই কবিতায় চড়ুই পাখিটিকে কীসের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: এই কবিতায় ছোট্ট চড়ুই পাখিটিকে জীবনের চঞ্চলতা, সজীবতা এবং প্রকৃতির চিরন্তনত্বের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবনের বিপরীতে প্রকৃতির এই চিরস্থায়ী রূপটিই চড়ুইটির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

13. ‘একটি চড়ুই পাখি’ কবিতায় কবির নিঃসঙ্গতার চিত্রটি কীভাবে ফুটে উঠেছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: কবিতায় দেখা যায়, কবির কোনো মানবসঙ্গী নেই এবং তিনি একটি নির্জন ঘরে একাকী বাস করেন। একটি ছোট্ট সাধারণ চড়ুই পাখিই তাঁর একমাত্র সঙ্গী, যার অনুপস্থিতি তাঁকে আরও বেশি শূন্যতায় ভরিয়ে দেয়— এভাবেই কবির গভীর নিঃসঙ্গতা ফুটে উঠেছে।

14. চড়ুই পাখিটিকে কবি তাড়িয়ে দেন না কেন?

উত্তর দেখো

উত্তর: কবি তাঁর একাকী ও নিঃসঙ্গ জীবনে চড়ুই পাখিটিকে তাড়িয়ে দেন না কারণ, এই চঞ্চল পাখিটিই তাঁর নির্জন ঘরের একমাত্র বন্ধু। পাখিটির উপস্থিতিতেই কবির একাকী জীবনে কিছুটা হলেও প্রাণের স্পন্দন ও সজীবতা ফিরে আসে।

15. কবিতায় মানবজীবনের নশ্বরতার বিষয়টি কীভাবে ফুটে উঠেছে?

উত্তর দেখো

উত্তর: এই কবিতায় কবি বুঝিয়েছেন যে মানুষের জীবন অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী, একদিন সকলকেই এই পৃথিবীর সমস্ত মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে হবে। কিন্তু প্রকৃতি ও তার প্রাণীরা (যেমন চড়ুই পাখি) চিরকাল তাদের নিজস্ব ছন্দে এই পৃথিবীতেই থেকে যাবে, এভাবেই মানবজীবনের নশ্বরতা ফুটে উঠেছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
শেয়ার