অষ্টম শ্রেণি – বাংলা, তৃতীয় পাঠ, অধ্যায় -9: একটি চড়ুই পাখি – তারাপদ রায়, ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর মান 3
অধ্যায় 9: একটি চড়ুই পাখি
(ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর – মান: 3)
নিচের উক্তিগুলির উৎস, প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো:
1. “মাঝে মাঝে চলে যায়…” – কোথায় চলে যায়? আবার ফিরে আসে কেন?
উত্তর দেখো
উৎস: কবি তারাপদ রায়ের লেখা ‘একটি চড়ুই পাখি’ কবিতা থেকে উদ্ধৃতিটি গৃহীত হয়েছে。
প্রসঙ্গ: চড়ুই পাখিটির চঞ্চল স্বভাব এবং সাময়িকভাবে ঘরের বাইরে যাওয়ার কথা বোঝাতে এই উক্তি।
তাৎপর্য: চড়ুই পাখিটি স্বভাবতই খুব চঞ্চল। সে সারাদিন কবির নির্জন ঘরে কাটায় না। মাঝে মাঝে সে জানালার ফাঁক দিয়ে বাইরের বিশাল ও উন্মুক্ত পৃথিবীতে উড়ে যায়। কিন্তু বাইরের ওই অসীম পৃথিবীতে তার কোনো স্থায়ী আশ্রয় নেই বলে, দিনের শেষে সে আবার কবির এই চেনা ও নিরাপদ ঘরেই ফিরে আসে।
2. “আবার ফিরে আসে…” – কে ফিরে আসে? তার এই ফিরে আসার তাৎপর্য কী?
উত্তর দেখো
উৎস: আলোচ্য উক্তিটি আধুনিক কবি তারাপদ রায় রচিত ‘একটি চড়ুই পাখি’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গ: চড়ুই পাখিটির কবির ঘরে পুনরায় ফিরে আসার ঘটনাটি এখানে বলা হয়েছে।
তাৎপর্য: এখানে চড়ুই পাখিটির ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে। পাখিটি সারাদিন বাইরের খোলা আকাশে উড়ে বেড়ালেও, কবির নির্জন ঘরটিই তার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। এই ফিরে আসার মাধ্যমে মূলত মানুষের নিঃসঙ্গ জীবনে প্রকৃতির অকৃত্রিম সান্নিধ্য এবং একটি নিরীহ পাখির সাথে মানুষের অদ্ভুত এক নির্ভরতার সম্পর্ক ফুটে উঠেছে।
3. “কৌতূহলী দুই চোখ মেলে…” – কার চোখের কথা বলা হয়েছে? তার দৃষ্টি কৌতূহলী কেন?
উত্তর দেখো
উৎস: উদ্ধৃতিটি কবি তারাপদ রায়ের লেখা ‘একটি চড়ুই পাখি’ কবিতা থেকে চয়ন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গ: কবির ঘরে ফিরে এসে পাখিটির দৃষ্টির বর্ণনা দিতে গিয়ে এ কথা বলা হয়েছে।
তাৎপর্য: এখানে চড়ুই পাখিটির চোখের কথা বলা হয়েছে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে পাখিটি অত্যন্ত কৌতূহল নিয়ে চারদিকে তাকায়। কবির কল্পনায়, পাখিটি যেন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে চায় যে তার অনুপস্থিতিতে ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র বা জিনিসপত্রের কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না। তার এই চাহনির মধ্যে এক প্রচ্ছন্ন অধিকারবোধ লুকিয়ে থাকে।
4. “হয়তো ভাবে…” – কে ভাবে? সে কী ভাবে?
উত্তর দেখো
উৎস: আলোচ্য পঙ্ক্তিটি তারাপদ রায় রচিত ‘একটি চড়ুই পাখি’ কবিতা থেকে সংকলিত।
প্রসঙ্গ: চড়ুই পাখিটির কাল্পনিক অধিকারবোধ এবং অহংকারের কথা বোঝাতে কবি এই উক্তি করেছেন।
তাৎপর্য: এখানে চড়ুই পাখিটি ভাবে। কবির কল্পনায়, পাখিটি অত্যন্ত অহংকারের সাথে ভাবে যে এই নির্জন ঘরটি এবং ঘরের ভেতরের সমস্ত আসবাবপত্রের আসল মালিক হলো সে নিজেই। কবির মতে, পাখিটির এই ভাবনার মধ্যেই ঘরটির প্রতি তার প্রবল অধিকারবোধ এবং আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ ঘটেছে।
5. “এই ঘরের লোকটা…” – ঘরের লোকটা কে? তাকে নিয়ে কার, কী ভাবনা?
উত্তর দেখো
উৎস: উদ্ধৃতিটি কবি তারাপদ রায়ের ‘একটি চড়ুই পাখি’ কবিতা থেকে গৃহীত।
প্রসঙ্গ: চড়ুই পাখিটির চোখে কবির অবস্থানটি কেমন, তা বোঝাতে এই উক্তি।
তাৎপর্য: ‘ঘরের লোকটা’ বলতে এখানে স্বয়ং কবিকে বোঝানো হয়েছে। কবির মনে হয়, চড়ুই পাখিটি তাঁকে এই ঘরের একজন অস্থায়ী বা সাময়িক বাসিন্দা বলে মনে করে। পাখিটি ভাবে, এই ঘরে মানুষের উপস্থিতি ক্ষণস্থায়ী, আজ আছে তো কাল নেই। কিন্তু সে নিজে এই ঘরের স্থায়ী বাসিন্দা এবং চিরস্থায়ী মালিক।
6. “নিতান্তই ক্ষণস্থায়ী…” – কাকে ‘ক্ষণস্থায়ী’ বলা হয়েছে? কেন বলা হয়েছে?
উত্তর দেখো
উৎস: আলোচ্য উক্তিটি কবি তারাপদ রায়ের লেখা ‘একটি চড়ুই পাখি’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গ: পৃথিবীতে মানুষের ক্ষণস্থায়ী উপস্থিতির কথা বোঝাতে এই কথাটি বলা হয়েছে।
তাৎপর্য: এখানে ‘ঘরের লোকটা’ অর্থাৎ স্বয়ং কবি বা মানবজাতিকে ‘ক্ষণস্থায়ী’ বলা হয়েছে। কারণ মানবজীবন চিরস্থায়ী নয়, জন্ম-মৃত্যুর অমোঘ নিয়মে মানুষকে একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতেই হয়। অন্যদিকে প্রকৃতি ও তার প্রাণীরা তাদের নিজস্ব নিয়মে চিরকাল পৃথিবীতে থেকে যায়। মানুষের এই নশ্বরতা বোঝাতেই ‘ক্ষণস্থায়ী’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
7. “আমি চলে গেলে…” – ‘আমি’ কে? তার চলে যাওয়ার অর্থ কী?
উত্তর দেখো
উৎস: উদ্ধৃতিটি আধুনিক কবি তারাপদ রায় রচিত ‘একটি চড়ুই পাখি’ কবিতা থেকে চয়ন করা হয়েছে。
প্রসঙ্গ: মানুষের অবধারিত মৃত্যুর সত্য এবং তৎপরবর্তী অবস্থার কথা বোঝাতে এই উক্তি।
তাৎপর্য: এখানে ‘আমি’ বলতে স্বয়ং কবিকে বোঝানো হয়েছে। ‘চলে যাওয়া’ বলতে এখানে সাময়িকভাবে কোথাও যাওয়াকে বোঝায়নি, বরং মৃত্যুর মাধ্যমে এই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, মৃত্যুর পর তাঁর এই সাধের ঘর এবং জিনিসপত্রের ওপর তাঁর আর কোনো অধিকার থাকবে না।
8. “টেবিল ফুলদানি বইপত্র…” – এই জিনিসগুলির উল্লেখ কেন করা হয়েছে? এগুলির পরিণতি কী হবে বলে ভাবা হয়েছে?
উত্তর দেখো
উৎস: আলোচ্য পঙ্ক্তিটি তারাপদ রায়ের লেখা ‘একটি চড়ুই পাখি’ কবিতা থেকে সংগৃহীত।
প্রসঙ্গ: মানুষের অবর্তমানে তার পার্থিব সম্পদের উত্তরাধিকার কে পাবে, সেই কল্পনার কথা এখানে বলা হয়েছে।
তাৎপর্য: টেবিল, ফুলদানি, বইপত্র— এগুলো হলো মানুষের নিত্যদিনের ব্যবহার্য এবং মায়ার বাঁধনে জড়ানো পার্থিব সম্পদ। কবির কল্পনায়, চড়ুই পাখিটি ভাবে যে কবি যেদিন মারা যাবেন বা চিরকালের জন্য চলে যাবেন, সেদিন এই ঘরের সমস্ত সম্পদের একমাত্র মালিক হবে সে নিজেই। অর্থাৎ, মানুষের অহংকারের সম্পদ প্রকৃতির অধিকারেই থেকে যাবে।
9. “সবকিছুর একচ্ছত্র মালিকানা…” – কার মালিকানা? এই মালিকানাবোধের কারণ কী?
উত্তর দেখো
উৎস: উদ্ধৃতিটি কবি তারাপদ রায়ের ‘একটি চড়ুই পাখি’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গ: কবির অবর্তমানে চড়ুই পাখিটির কাল্পনিক উত্তরাধিকার পাওয়ার বিষয়টি এখানে ফুটে উঠেছে।
তাৎপর্য: এখানে চড়ুই পাখিটির একচ্ছত্র মালিকানার কথা বলা হয়েছে। পাখিটি দীর্ঘকাল ধরে কবির ঘরে নিশ্চিন্তে বাস করছে। সেই অভ্যাসের বশেই তার মনে এই অধিকারবোধ জন্মেছে। সে মনে করে, মানুষের জীবন যেহেতু ক্ষণস্থায়ী, তাই কবির মৃত্যুর পর এই ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র এবং জিনিসপত্রের ওপর কেবল তার একারই অবাধ বা একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
10. “কার্নিশে বসে চড়ুই পাখি…” – কার্নিশে বসে সে কী করে? তার এই আচরণের মধ্য দিয়ে কী প্রকাশ পায়?
উত্তর দেখো
উৎস: আলোচ্য উক্তিটি কবি তারাপদ রায়ের লেখা ‘একটি চড়ুই পাখি’ কবিতা থেকে গৃহীত।
প্রসঙ্গ: চড়ুই পাখিটির চঞ্চল স্বভাবের কথা বোঝাতে কবি এই কথা বলেছেন।
তাৎপর্য: চড়ুই পাখিটি সারাদিন কবির নির্জন ঘরের কার্নিশে বা জানালার ফাঁকে অত্যন্ত চঞ্চলভাবে ঘুরে বেড়ায়। তার এই আচরণের মধ্য দিয়ে প্রকৃতির অবাধ সজীবতা এবং প্রাণের স্পন্দন প্রকাশ পায়। কবির একাকী ও নিঃসঙ্গ জীবনে এই পাখিটির চঞ্চলতাই একমাত্র আনন্দের খোরাক জুগিয়ে ঘরটিকে প্রাণবন্ত করে রাখে।
11. “কখনো বা জানালার ফাঁক দিয়ে…” – সে কোথায় যায়? সেখানে তার কী অভিজ্ঞতা হয়?
উত্তর দেখো
উৎস: উদ্ধৃতিটি আধুনিক কবি তারাপদ রায় রচিত ‘একটি চড়ুই পাখি’ কবিতা থেকে চয়ন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গ: চড়ুই পাখির সাময়িক স্বাধীনতার কথা বোঝাতে এই উক্তি।
তাৎপর্য: চড়ুই পাখিটি জানালার ফাঁক দিয়ে বাইরের বিশাল ও উন্মুক্ত পৃথিবীতে উড়ে যায়। কিন্তু বাইরের ওই অসীম পৃথিবীতে সে হয়তো নিজেকে খুব অসহায় ও নিরাপত্তাহীন বোধ করে। সেখানে তার কোনো নির্দিষ্ট ও স্থায়ী আশ্রয় নেই বলেই সে দিনের শেষে আবার তার পরিচিত এবং নিরাপদ আশ্রয় অর্থাৎ কবির ঘরেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়।
12. “আবার ফিরে আসে…” – এই ফিরে আসার মধ্য দিয়ে কবির কোন্ নিঃসঙ্গতার বোধ ধরা পড়েছে?
উত্তর দেখো
উৎস: আলোচ্য উক্তিটি কবি তারাপদ রায়ের লেখা ‘একটি চড়ুই পাখি’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গ: চড়ুই পাখির ফিরে আসার মধ্য দিয়ে কবির মানসিক অবস্থার কথা এখানে বলা হয়েছে।
তাৎপর্য: পাখিটি যখন বাইরে যায়, তখন কবির ঘরটি আরও বেশি শূন্য ও নিঃসঙ্গ হয়ে ওঠে। কিন্তু সে যখন আবার ফিরে আসে, তখন কবির মনে এক অদ্ভুত শান্তি কাজ করে। অর্থাৎ, মানবসঙ্গহীন কবির জীবনে এই ছোট্ট পাখিটিই হলো একমাত্র বন্ধু। পাখিটির ফিরে আসা প্রমাণ করে যে, নিঃসঙ্গ মানুষের জীবনে প্রকৃতির সামান্য সান্নিধ্যও কতটা অপরিহার্য ও আনন্দদায়ক।